আপনি কোন ঘরানার মানুষ? জেনে নিন আপনার কর্মক্ষেত্রের আসল চালিকাশক্তি!

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল

আপনি কি স্বাধীনতা, অর্থ নাকি সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে চালিত হন? বিবিসি ও মনোবিজ্ঞানী ইয়ান ম্যাকরের নতুন গবেষণার আলোকে জেনে নিন আপনার আসল কাজের অনুপ্রেরণা বা মোটিভেশনাল স্টাইল কোনটি।

সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পথটা কখনোই সহজ নয়। লক্ষ্য অর্জনের যাত্রাটা দূর থেকে যতটা সহজ মনে হয়, মাঝপথে গিয়ে তা ততটাই কঠিন ও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। ক্লান্তি, হতাশা আর ছেড়ে দেওয়ার তীব্র ইচ্ছার মাঝেও যে শক্তিটি আমাদের অবিচল রাখে, তা হলো— মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এবং প্রখ্যাত কর্মক্ষেত্র মনস্তত্ত্ববিদ ইয়ান ম্যাকরে (Ian MacRae) যৌথভাবে মানুষের কর্মক্ষেত্রের মোটিভেশন নিয়ে একটি বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষ কীভাবে তাদের কাজের অনুপ্রেরণা নিয়ন্ত্রণ করে এবং তার ফলাফল কী হয়, তা খতিয়ে দেখা।

৬ ধরনের মোটিভেশনাল স্টাইল: আপনি কোনটি?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের অনুপ্রেরণা মূলত দুই প্রকার— ‘অভ্যন্তরীণ’ (Intrinsic) এবং ‘বাহ্যিক’ (Extrinsic)। যখন আপনি নিজের মনের আনন্দে কোনো কাজ করেন, তখন তা অভ্যন্তরীণ; আর যখন কোনো পুরস্কার বা শাস্তির ভয়ে করেন, তা বাহ্যিক।

এই গবেষণার অংশ হিসেবে তৈরি করা একটি বিশেষ কুইজের মাধ্যমে মূলত ৬টি প্রধান মোটিভেশনাল স্টাইল বা মানুষের কাজের চালিকাশক্তি চিহ্নিত করা হয়েছে:

১. সেলফ স্টার্টার (Self Starter): যারা সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) দ্বারা পরিচালিত হন। ২. হাই ফ্লায়ার (High Flier): সমাজে বা কর্মক্ষেত্রে সবার স্বীকৃতি ও সুনাম যাদের মূল প্রেরণা। ৩. ব্রিজ বিল্ডার (Bridge Builder): সামাজিক বন্ধন, সহকর্মী ও সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে যারা ভালোবাসেন। ৪. ওয়েলথ বিল্ডার (Wealth Builder): যাদের মূল লক্ষ্য এবং অনুপ্রেরণা হলো আর্থিক উন্নতি ও ভালো পারিশ্রমিক। ৫. চিলম্যাক্সার (ChillMaxxer): যারা কাজের ক্ষেত্রে নমনীয়তা, আরামদায়ক পরিবেশ ও সুবিধাজনক শর্ত খোঁজেন। ৬. সলিড গ্রাউন্ডার (Solid Grounder): কর্মজীবনে যারা দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান।

কী বলছে বিজ্ঞান?

কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির সহযোগী অধ্যাপক মেরিনা মিলিয়াভস্কায়া এবং তাঁর সহকর্মীদের পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অন্যের ইচ্ছায় নয় বরং নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণায় (Intrinsic Motivation) লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, তারা অনেক বেশি সফল হন। উদাহরণস্বরূপ, একজন ডায়েটকারী যখন নিজের স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তখন বাইরের ফাস্টফুডের প্রলোভন তাকে সহজে বিভ্রান্ত করতে পারে না।

আপনার মোটিভেশন কীভাবে জানবেন?

বিবিসি ডটকমের এই বেনামী (Anonymous) সমীক্ষায় অংশ নিয়ে যে কেউ মাত্র কয়েক মিনিটে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী পূরণ করে নিজের পার্সোনালাইজড রিপোর্ট পেতে পারেন। এর মাধ্যমে নিজের শক্তির জায়গা বুঝে সেই অনুযায়ী ক্যারিয়ারের কৌশল সাজানো সম্ভব। এই গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল চলতি বছরের শেষের দিকে বিবিসি-তে প্রকাশ করা হবে।

নিজের অবচেতন মনের চালিকাশক্তিকে জানাটাই হলো আত্মসচেতনতার প্রথম ধাপ। আর এই আত্মসচেতনতাই আপনাকে পৌঁছে দেবে আপনার কাঙ্ক্ষিত সফলতার শীর্ষে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   5   =