অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল
অনুবাদ ও পরিমার্জন: সোহেল হাওলাদার
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামির এলাকার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতু। মার্কিন বাহিনীর টানা ষষ্ঠ রাতের এই ধ্বংসাত্মক হামলার পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং ধসে পড়া সেতুর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামির কাউন্টির গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ধসে পড়ায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বন্দর খামিরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে তীব্র ব্যাহত ঘটে। তবে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাস এবং অভ্যন্তরীণ রুটগুলোর যোগাযোগ যেন পুরোপুরি থমকে না যায়, সেজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান প্রশাসন।
জরুরি ভিত্তিতে ইরানের হরমোজগান প্রদেশ প্রশাসন, রাডার ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত মূল সেতুর পাশ দিয়ে একটি বিকল্প পার্শ্ব রাস্তা (Bypass Road) বা সাময়িক পথ তৈরি করেছে। এই অস্থায়ী বিকল্প পথটি চালুর মাধ্যমে ওই রুটে পুনরায় সীমিত আকারে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে চাপে রাখতে এবং দেশটির প্রধান বন্দরগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতেই যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দিন ধরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেসামরিক অবকাঠামো ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ইরানের এই দ্রুত পদক্ষেপকে দেশটির এক প্রকারের কৌশলগত প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

