বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট: সমতায় থাকলে যেভাবে নির্ধারিত হয় বিশ্বসেরা গোলদাতা

স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:ফুটবল বিশ্বকাপে একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হলে কীভাবে নির্ধারিত হয় গোল্ডেন বুট বিজয়ী? জানুন ফিফার অ্যাসিস্ট ও খেলার সময়ের টাইব্রেকার নিয়ম এবং গোল্ডেন বুটের ইতিহাস। বিস্তারিত দৈনিক পূর্বাচল-এ।

ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন বুট’। পুরো টুর্নামেন্টে যে ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তাঁর হাতেই ওঠে এই সম্মানজনক পুরস্কার। তবে টুর্নামেন্ট শেষে যদি একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হয়, তবে কীভাবে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়—তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু গোলসংখ্যা সমান হলেই গোল্ডেন বুট যৌথভাবে দিয়ে দেওয়া হয় না। বিজয়ী বেছে নিতে ফিফা নির্দিষ্ট দুটি ‘টাইব্রেকার’ নীতি অনুসরণ করে।

প্রথম টাইব্রেকার: অ্যাসিস্টের সংখ্যা

গোলসংখ্যা সমান হলে সবার আগে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর সংখ্যা। সমান গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে যিনি সতীর্থদের দিয়ে বেশি গোল করিয়েছেন (অ্যাসিস্ট করেছেন), তিনিই গোল্ডেন বুটের রেসে এগিয়ে থাকবেন। এই অ্যাসিস্টের আনুষ্ঠানিক হিসাব নিরূপণ ও চূড়ান্ত করে ফিফার ‘টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’।

দ্বিতীয় টাইব্রেকার: মাঠে কাটানো সময় (মিনিট)

যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট—উভয় ক্ষেত্রেই দুজন বা তার বেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে হুবহু সমতা থাকে, তখন প্রয়োগ করা হয় দ্বিতীয় টাইব্রেকার। এ ক্ষেত্রে দেখা হয়, কোন ফুটবলার মাঠে কত কম সময় খেলেছেন। অর্থাৎ, কম মিনিট মাঠে থেকে যিনি সমপরিমাণ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, দক্ষতা ও কার্যকারিতার বিচারে তিনিই গোল্ডেন বুট জয়ের চূড়ান্ত দাবিদার হবেন।

যদি এই দুটি কঠোর মানদণ্ডেও কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া না যায়, কেবল তখনই গোল্ডেন বুট যৌথভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

ইতিহাস ও একমাত্র যৌথ বিজয়ী

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন শু’ নামে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘গোল্ডেন বুট’। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রোনালদো নাজারিও, মিরোস্লাভ ক্লোসা, থমাস মুলার, হামেস রদ্রিগেজ, হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো কিংবদন্তিরা এই অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন।

তবে বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র একবারই যৌথভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়ার নজির রয়েছে। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো ও বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্তইচকভ—দুজনই সমান ৬টি করে গোল এবং ১টি করে অ্যাসিস্ট করেছিলেন। এমনকি মাঠে কাটানো সময়ের নিয়মেও তাঁদের আলাদা করা যায়নি। ফলে ফুটবল ইতিহাসে সেবারই প্রথম ও শেষবারের মতো যৌথভাবে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে চূড়ান্তে। ফাইনালের মঞ্চে কেবল গোলসংখ্যা নয়, বরং অ্যাসিস্টের খতিয়ান আর মাঠে কাটানো প্রতিটি মিনিটই নির্ধারণ করে দিতে পারে কে হাসবেন শেষ হাসি, কার হাতে উঠবে এই সোনালী বুট।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   8   =