আইটি ডেস্ক | ডেইলি পূর্বাচল ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬
বর্তমান সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া বা হঠাৎ লক হয়ে যাওয়া একটি নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই সন্দেহজনক লগইন চেষ্টার কারণে মেটা সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট আটকে দেয়। এই ধরণের সাইবার ঝুঁকি থেকে ব্যবহারকারীদের শতভাগ সুরক্ষা দিতে মেটা এবার নিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’ (Verification Selfie) ফিচার।
সহজ কথায়, এটি ব্যবহারকারীর মুখের অবয়ব বা সেলফি লাইভ স্ক্যান করে নিশ্চিত করে যে অ্যাকাউন্টটি আসলেই তার। ফলে কোনো হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও লাইভ ফেস স্ক্যান ছাড়া আইডিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি হ্যাকড হওয়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকেও দ্বিগুণ সহজ ও নিরাপদ করবে।
কীভাবে চালু করবেন ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’ ফিচার?
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
-
ধাপ ১ (সেটিংস অপশন): প্রথমে আপনার স্মার্টফোন থেকে ফেসবুক অ্যাপটি ওপেন করুন। ডানদিকের ওপরে থাকা ‘থ্রি-লাইন’ (Menu) আইকনে ট্যাপ করে Settings & Privacy থেকে Settings অপশনে প্রবেশ করুন।
-
ধাপ ২ (সিকিউরিটি নির্বাচন): এবার স্ক্রিনের ওপরের দিকে থাকা Accounts Center-এ ক্লিক করে Password and Security অপশনে যান। সেখানে Verification Selfie নামের নতুন একটি অপশন দেখতে পাবেন, সেটিতে ট্যাপ করে আপনার নির্দিষ্ট প্রোফাইলটি সিলেক্ট করুন।
-
ধাপ ৩ (কোড যাচাইকরণ): এরপর Next বাটনে চাপ দিলে আপনার ফেসবুক আইডির সাথে যুক্ত ই-মেইলে একটি ওটিপি (ভেরিফিকেশন কোড) যাবে। কোডটি নির্ধারিত বক্সে বসিয়ে আবার Next দিন।
-
ধাপ ৪ (লাইভ সেলফি ধারণ): এবার Start Selfie-তে ট্যাপ করলে অ্যাপটি ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি (Permission) চাইবে। অনুমতি দেওয়ার পর স্ক্রিনে গোল বৃত্তের ভেতর ফেস রেখে নির্দেশনা অনুযায়ী মাথা ডানে-বামে বা ওপরে-নিচে ঘোরাতে হবে।
ভিডিও যাচাইকরণ সফল হলেই ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য আপনার ফেস আইডি মেটার ডাটাবেজে রেকর্ড হয়ে থাকবে।
বাড়তি সুরক্ষায় সাইবার বিশেষজ্ঞদের ৫ পরামর্শ
“শুধু ভেরিফিকেশন সেলফি চালু রাখলেই অ্যাকাউন্ট শতভাগ নিরাপদ ভাবা ঠিক হবে না। ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে ব্যবহারকারীকে নিজের অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় আরও কিছু বিষয়ে সচেতন হতে হবে।” — সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ
১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: অ্যাকাউন্টে সবসময় অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্নের মিশ্রণে একটি কঠিন ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। ২. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: ফেসবুকে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) অপশনটি চালু রাখুন। ৩. অচেনা লিংকে সতর্কতা: মেসেঞ্জার বা ই-মেইলে আসা যেকোনো অচেনা, লটারি বা সন্দেহজনক লিংকে (Link) ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। ৪. লগইন অ্যাক্টিভিটি চেক: আপনার ফেসবুক আইডিটি অন্য কোনো ডিভাইসে সচল আছে কি না, তা নিয়মিত ‘Where You’re Logged In’ অপশনে গিয়ে পরীক্ষা করুন। ৫. তথ্য হালনাগাদ: অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বর এবং রিকভারি ই-মেইল ঠিকানা সবসময় সচল ও আপডেট রাখুন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফেসবুকের এই উন্নত নিরাপত্তা ফিচারগুলো ব্যবহার করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।

