সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে গুজব: যেভাবে চিনবেন ভুয়া খবর

ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান সময়ে তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর কল্যাণে মুহূর্তেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নানা ধরনের খবর। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই বেশির ভাগ ভুয়া খবর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ও গুজব চেনার কিছু কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সংবাদের উৎস যাচাই: যেকোনো খবর সামনে এলে প্রথমেই সেটির উৎস খেয়াল করতে হবে। সংবাদটি কোনো স্বীকৃত ও নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে কি না, নাকি এটি অজানা কোনো ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে—তা যাচাই করা জরুরি। নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমে একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা উচিত।

২. আকর্ষণীয় শিরোনামে বিভ্রান্ত না হওয়া: অনেক সময় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য (ক্লিকবেইট) অতিরঞ্জিত, চটকদার বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। ভেতরের খবরের সঙ্গে শিরোনামের মিল থাকে না। তাই পুরো প্রতিবেদন না পড়ে কেবল শিরোনাম দেখে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. ছবি ও ভিডিওর সত্যতা পরীক্ষা: বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ছবি বা বহু পুরোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো ছবি বা ভিডিও নিয়ে সন্দেহ হলে গুগল ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ (Reverse Image Search)-এর মাধ্যমে তা অন্য কোথাও আগে প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা সহজেই যাচাই করা যায়।

৪. তারিখ ও প্রেক্ষাপট দেখা: অনেক সময় কয়েক বছর আগের কোনো পুরোনো ঘটনার ছবি বা ভিডিওকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট দাবি করে প্রচার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন। তাই সংবাদের ভেতরের তারিখ এবং ঘটনার সঠিক সময় যাচাই করা প্রয়োজন।

৫. অতি-আবেগ ও শেয়ার করার তাগিদ: কোনো পোস্টে যদি অতিরিক্ত আবেগ উসকে দেওয়া ভাষা, অবাস্তব চমকপ্রদ দাবি কিংবা ‘এখনই শেয়ার করুন’, ‘সবার আগে দেখুন’ ধরনের আহ্বান থাকে, তবে সেখানে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। এ ধরনের কনটেন্টে তথ্যের চেয়ে উসকানিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কোনো তথ্য নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ হলে তা যাচাই না করে শেয়ার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ। তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্ট-চেকিং (Fact-checking) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

ভুয়া খবর শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না; এটি সামাজিক অস্থিরতা, দাঙ্গা, আর্থিক ক্ষতি এমনকি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটাতে পারে। তাই ডিজিটাল যুগে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে গ্রহণ ও প্রচার করা উচিত। সচেতনতা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর আস্থা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিস্তার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।

[নিউজ ক্যাটাগরি: তথ্যপ্রযুক্তি / সচেতনতা / জাতীয়]

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   7   =