ঢাকা:
৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিন আজ। গণমানুষের এই মহান শিল্পীর জন্মদিনে এলিট শ্রেণীর উপেক্ষা ও মিডিয়ার উদাসীনতা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
চলচ্চিত্রের গানের জন্য রেকর্ড আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এবং দেশের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিন আজ। অথচ ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই গায়কের জন্মদিনে নেই কোনো রাষ্ট্রীয় বড় আয়োজন, মিডিয়াতেও তাকে নিয়ে তেমন কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান চোখে পড়ছে না। এই মহান শিল্পীর জন্মলগ্নে এলিট শ্রেণীর চিরন্তন উপেক্ষা, মিডিয়ার চরম উদাসীনতা এবং তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঁচিয়ে রাখার আকুতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
জনসাধারণের হৃদয়ে বাস, ড্রয়িংরুমে নিষেধাজ্ঞা
- গণমানুষের কণ্ঠস্বর: যখন রেডিও, টেলিভিশন কিংবা রূপালি পর্দায় এন্ড্রু কিশোরের জাদুকরী সুর বেজে চলত, তখন রিকশাচালক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানদাররা কানের কাছে রেডিও ধরে তার গানে বুঁদ হয়ে থাকতেন।
- এলিট শ্রেণীর দূরত্ব: সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যতটা আপন ছিলেন, তথাকথিত উচ্চবিত্ত বা এলিট সোসাইটি বরাবরই চলচ্চিত্রের গানকে তাদের ড্রয়িংরুমে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল।
- শ্রেণী বিভাজনের মানসিকতা: নিজেদের আভিজাত্য জাহির করতে গিয়ে সেই সময় উচ্চবিত্ত শ্রেণী মেতে থাকত আধুনিক কিংবা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত নিয়ে, যার ফলে এন্ড্রু কিশোরের মতো মেগা-স্টারকে তারা সব সময় না দেখার ভান করে গেছে।
মিডিয়ার দায় ও সোশ্যাল মিডিয়ার বৈপরীত্য
- আলো ছড়াতে ব্যর্থ মিডিয়া: দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক হওয়া সত্ত্বেও দেশীয় মূলধারার মিডিয়া এন্ড্রু কিশোরকে যেভাবে স্পটলাইটে রাখার দরকার ছিল, তা করতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে।
- বলিউড প্রীতি বনাম দেশীয় কিংবদন্তি: যেখানে একজন বলিউড নায়ক বা গায়কের জন্মদিনে আমাদের দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুভেচ্ছায় ভেসে যায়, সেখানে এন্ড্রু কিশোরের মতো চিরসবুজ নক্ষত্রের জন্মদিনে এক প্রকার নীরবতা বিরাজ করে।
- মূল্যায়নহীন বিদায় ও স্মৃতি: মৃত্যুর পরও এই মহান শিল্পীর অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মিডিয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি বলেই মনে করেন ভক্তরা।
রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় নামকরণের দাবি ও ভক্তদের আক্ষেপ
- স্মৃতি সংরক্ষণের অভাব: এন্ড্রু কিশোরের মতো একজন কিংবদন্তির স্মৃতি ধরে রাখতে দেশে দৃশ্যমান কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
- স্থাপনার নামকরণের দাবি: সঙ্গীতপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—কিংবদন্তি এই গায়কের নামে দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অডিটরিয়াম, মেট্রো স্টেশন কিংবা বড় কোনো রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নামকরণ করা যেত।
- ইতিহাসে অমর করার আহ্বান: চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যাওয়া এই মহান শিল্পীকে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, তার সৃষ্টিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাঁচিয়ে রাখার জোর দাবি উঠেছে।


