সোহেল হাওলাদার, দৈনিক পূর্বাচল:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া কতটা জটিল? বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এ।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভঙ্গুরতার কারণে তার ফেরার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হবে বলে মনে করছেন খোদ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদদের অনেকে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রকাশ্য ও বড় কোনো সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। মাঝেমধ্যে হঠাৎ ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, জনসাধারণের মাঝে বা মাঠপর্যায়ে কোনো জোরালো অবস্থান তারা তৈরি করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দলটির অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো—তারা এখনো গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের মূল কারণ ও বাস্তবতা স্বীকার না করে কেবল ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ ওপর ভর করে রাজনীতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা আত্মসমালোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়নি। আর আওয়ামী লীগের এই অবস্থানকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা একটি বড় ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা দলটিকে আরও বেশি কোণঠাসা করে ফেলছে।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনি জটিলতার পাশাপাশি এই বিশাল রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও জনমতকে পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার সাধারণ রাজনীতিতে বা দেশে ফিরে আসা নিকট ভবিষ্যতে এক দুরুহ চ্যালেঞ্জ।


