বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
০৪ নভেম্বর ২০২৬
টেলিভিশন নাটকের শুটিং ফ্লোরে শিল্পীদের পেশাদারিত্বের আড়ালে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তির সময়গুলো নিয়ে চলছে এক ধরনের অপব্যবহার। কাজের ফাঁকে বিশ্রামের মুহূর্তগুলোকে গোপনে মুঠোফোনে বন্দি করে ফেসবুকে রিলস হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অন্যের প্রাইভেসি নষ্ট করে তৈরি করা এসব কনটেন্ট থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ারও অভিযোগ করেছেন অভিনয়শিল্পীরা।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেত্রী রেশমা আহমেদ।
নাটক বা ধারাবাহিকের সেটে মা-বাবা কিংবা বয়স্ক বিভিন্ন চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেন, তাঁদের কাজের চাপ ও ব্যস্ততা থাকে অন্য সবার চেয়ে বেশি। একটানা দৃশ্যের পর দৃশ্য ক্যামেরার সামনে কাজ করার পর তাঁরা শুটিংয়ের ফাঁকে অল্প কিছু সময় বিরতি পান। এই সংক্ষিপ্ত সময়টুকুতে তাঁরা কাজের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে সহকর্মীদের সঙ্গে খোশগল্পে মাতেন, চা-কফি খান কিংবা নিজেদের সংসার ও ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেত্রী রেশমা আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, “প্রতি সিকোয়েন্সের মাঝখানে হয়তো ১০ মিনিট ব্রেক দেওয়া হয়। তখন আমরা চা খাই, গল্প করি, একটু ফান করার চেষ্টা করি। হাসাহাসি করি। সুখ-দুঃখের কথা বলি। ব্যক্তিগত জীবন, সংসার, সন্তানদের নিয়ে কথা বলি। আর এই ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পরবর্তী সিকোয়েন্সের জন্য এনার্জি নিয়ে তৈরি হই।”
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, শিল্পীদের এই একান্ত ব্যক্তিগত ও মানসিক প্রশান্তির মুহূর্তগুলো আর নিরাপদ থাকছে না। অভিযোগ রয়েছে, শুটিং ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা কারিগরি কর্মীরা অনুমতি ছাড়াই গোপনে এসব মুহূর্ত ভিডিও করে রাখছেন। পরবর্তীতে সেগুলোকে রিলস বা শর্টস আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে ভিউ কামাই করা হচ্ছে এবং তা থেকে অর্থনৈতিক ফায়দা লুটছে একটি চক্র।
শোবিজ অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাগত জায়গাতেও যদি মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে এভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে তা সুস্থ কাজের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই ধরনের অনৈতিক চর্চা বন্ধে শিল্পীদের নিজেদেরই এখন অনেক বেশি সতর্ক ও কঠোর হওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রী রেশমা আহমেদ।


