অন্যান্য

গ্রামবাংলায় আর চোখে পড়ে না বাবুই পাখির নিপুণ শিল্পকর্ম/দৈনিক পূর্বাচল

বিশেষ ফিচার | দৈনিক পূর্বাচল

০৪ নভেম্বর ২০২৬

গ্রামবাংলার মেঠোপথের ধারে তালগাছ কিংবা নারিকেলগাছের ডালে বাতাসের দোলায় দুলতে থাকা সেই চেনা দৃশ্যটি আজ আর সহজে চোখে পড়ে না। খড়, তালপাতা আর কাশের আঁশ দিয়ে বাবুই পাখির পরম মমতায় বুনে তোলা শৈল্পিক ঘরগুলো যেন সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। কারিগরি দক্ষতা ও নিপুণতার জন্য ‘প্রকৃতির স্থপতি’ হিসেবে খ্যাত এই বাবুই পাখির দৃশ্য এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মৃতিকথায় বন্দি।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, বাবুই পাখির আবাসন সংকট ও বিলুপ্তির পেছনে মূল কারণ পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন এবং মানুষের অসচেতনতা।

কেন হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা?

১. উঁচু গাছের সংকট: বাবুই পাখি সাধারণত তালগাছ, নারকেলগাছ, সুপারি বা খেজুরগাছের উঁচু ডালে বাসা বাঁধে। তবে আধুনিকায়ন ও নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল দিন দিন কমে আসছে। ২. খাদ্য ও কাঁচামালের অভাব: কৃষি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার এবং ঘাস-লতা-পাতার ঘাটতির কারণে পাখিগুলোর প্রধান খাদ্য ও বাসা বানানোর আঁশযুক্ত উপকরণের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ৩. জলবায়ুর পরিবর্তন: ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও পাখির প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কয়েক দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে বাতাসে দুলতে থাকা শত শত বাবুইয়ের ঝুলন্ত বাসা পথচারীদের চোখ জুড়িয়ে দিত। শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও এদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

প্রকৃতির এই নিপুণ শিল্পী ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে উঁচু গাছ রোপণ, সুরক্ষিত অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির জোর তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment