বিনোদন

ইসলাম ও মানবতা নিয়ে মুখ খুললেন কনকচাঁপা | দৈনিক পূর্বাচল

বিনোদন প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল

কেবল জন্মসূত্রে নয়, মনের প্রগাঢ় বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকেই ইসলামকে ধারণ করার কথা জানালেন সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

ঢাকা: নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতা ও ধর্মের মেলবন্ধন নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। তাঁর মতে, মানবতার জন্য কাজ করার অর্থ ধর্মীয় বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করা নয়; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেই মানুষের সেবা করা সম্ভব।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম নেওয়ার কারণে নয়, বরং মনের গভীর উপলব্ধি ও দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই তিনি ইসলাম ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তাঁর ধর্মীয় দর্শন, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, পাঠাভ্যাস ও জীবনবোধ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতে নিজেকে বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক ও গর্বিত মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেন কনকচাঁপা। পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং মা মোমেনা জাহান একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বাবা-মায়ের পৈতৃক ভিটা হলেও কনকচাঁপার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর স্বামী মইনুল ইসলাম খান দেশের একজন খ্যাতিমান সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

নিজের ধর্মীয় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কনকচাঁপা লেখেন,

“আমি আমার নিজ ধর্মের মৌলিকত্বে অত্যন্ত বিশ্বাস করি। অন্য সব ধর্মকে সম্মান করলেও সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার নিজ ধর্ম ইসলামকে, আমার স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাআলাকে এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে।”

মৃত্যু ভাবনা ও আখেরাতের প্রতি নিজ বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পরকাল, কিয়ামত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ইসলাম বা মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হওয়া কটূক্তি প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, যারা রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ব্যাঙ্গ করে, তারা প্রকৃতপক্ষে মহানবী (সা.)-এর পরিচয় ও মহানুভবতা সম্পর্কে অজ্ঞ। রাসুল (সা.)-কে সঠিকভাবে জানলে কেউ এই ধরনের গর্হিত কাজ করত না বলে মনে করেন তিনি।

বই পড়ার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথা জানিয়ে এই শিল্পী বলেন, নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পবিত্র কোরআনকে এক বিস্ময়কর গ্রন্থ উল্লেখ করে তিনি জানান, মূল আরবির পাশাপাশি বাংলায় অর্থ বুঝে অনুধাবন করার চেষ্টা করেন।

মানবতা ও ধর্মের সম্পর্কের ব্যাখ্যায় কনকচাঁপা বলেন,

“অনেকে বলেন মানবতাই বড় ধর্ম। অবশ্যই মানুষের মধ্যে মানবিক গুণ থাকতে হবে। তবে আমি যদি ধার্মিক বা ধর্মভীরু হয়ে মানবতার জন্য কাজ করি, তাতে কোনো বাধা দেখি না। মানবসেবার অজুহাতে ধর্মীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলাকে আমার কাছে এক ধরনের ফাঁকিবাজি মনে হয়।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে হলে বা মানবতার সেবা করতে হলে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাস গোপন বা অস্বীকার করতে হবে—এই ধারণার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই একমত নন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজ বিশ্বাসের আত্মপ্রত্যয় প্রকাশ করে এই গায়িকা লেখেন,

“আমি মুক্তকণ্ঠে বলতে চাই, কেবল মুসলমানের ঘরে জন্মেছি বলেই নয়, মনের প্রগাঢ় বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকেই আমি ইসলাম ধর্মকে আমার কলবে ধারণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।”

সবশেষে ভক্ত-অনুরাগী ও দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করে নিজের এবং পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বহু জনপ্রিয় গানের এই কণ্ঠশিল্পী।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment