নিজস্ব প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা):দৈনিক পূর্বাচল
বরগুনার আমতলীতে কোচিং করার সময় সহপাঠীর দেওয়া বিদেশ থেকে আনা আখরোট খেয়ে সপ্তম শ্রেণির সাত ছাত্রী আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বমি, শ্বাসকষ্ট ও তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাতে শতাধিক শিক্ষার্থী কোচিংয়ে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আবির হোসেন তার প্রবাসী বাবার পাঠানো আখরোট সহপাঠীদের মধ্যে বিতরণ করে। তা খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়া, উর্মী, মিম, এলমা, মরিয়ম, ফাতেমা ও সামিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে।
হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের এমন অসুস্থতায় পুরো বিদ্যালয় চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত পৌনে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রহস্যের জট ও চিকিৎসকদের বক্তব্য এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে সামিয়া ও মরিয়ম দাবি করেছে যে তারা ওই আখরোট খায়নি; তবুও অন্যদের দেখাদেখি বা পরিবেশের প্রভাবে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভেন্দু বায় জানান, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, শ্বাসকষ্ট ও অস্থিরতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হলো, তা ল্যাব টেস্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান হোসেন জানান, কোচিং চলাকালীন এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আখরোট নিয়ে আসা ছাত্র আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। শিক্ষার্থীরা কী কারণে অসুস্থ হলো, তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


