প্রতিবেদন/দৈনিক পূর্বাচল
বিদেশের মাটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কর্মী, রাজনীতিবিদ ও শিল্পীদের ওপর নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের লোকজনের হামলা অব্যাহত রয়েছে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহফুজ আলম থেকে শুরু করে সবশেষ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন পর্যন্ত একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব হেনস্তা ও আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সময়মতো আনুষ্ঠানিক মামলা না করায় এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনে গালিগালাজ বা পানি ছিটানোর মতো ঘটনায় মামলা দায়েরের সুযোগ না থাকায় হামলাকারীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূতাবাসের পক্ষ থেকে সরাসরি মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। আইনি প্রতিকার ভুক্তভোগীকেই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী করতে হয়, যেখানে দূতাবাস কেবল কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করতে পারে।
সর্বশেষ ইতালির মেস্ত্রে এলাকায় অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় এবং দেশটির পুলিশের উপস্থিতিতে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এই মামলার বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। এর আগে বনি আমিন (ইতালি), হাসনাত আবদুল্লাহ (লন্ডন), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আখতার হোসেন (নিউ ইয়র্ক), মাহফুজ আলম (নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেট) এবং ড. আসিফ নজরুল (সুইজারল্যান্ড)—প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই হামলার পর আইনি পদক্ষেপ ও মামলার ঘাটতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


