রাজনীতি

জাতিসংঘ ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | দৈনিক পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক গমন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় বক্তব্য দেবেন তিনি। ৩৫ সদস্যের সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদলের বিস্তারিত জানুন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তার্কিশ এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে মন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন।

প্রতিনিধিদলে চার মন্ত্রী ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে চারজন মন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন— অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উল্লেখ্য, ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কেই অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই সরাসরি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন।

এছাড়া, রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও বহুদলীয় প্রতিনিধিত্বের অংশ হিসেবে এই প্রতিনিধিদলে বিরোধী দলের দুজন রাজনৈতিক নেতা স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন— বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন।

২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফরসূচি শুরু হবে।

  • ২২ সেপ্টেম্বর: সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্বে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজ/অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

  • ২৩ সেপ্টেম্বর: সকালে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন তিনি। পরবর্তীতে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।

  • ২৪ সেপ্টেম্বর: সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বিকেলে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG), অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এছাড়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর আলোকপাত করা হবে।

দৃষ্টান্তমূলক ব্যয়সংকোচন: ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট প্রতিনিধিদল

চলতি সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা মাত্র ৩৫ জনে সীমিত রেখে সরকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিগত সরকারগুলোর আমলের বহুল সমালোচিত ‘বিশাল সফরসঙ্গী বহর’ পরিহার করে কেবল প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের এই সফরে যুক্ত করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুটি অধিবেশনে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭ ও ৬২ জন। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে সদস্য সংখ্যা ছিল ২২র্থ জন এবং স্বাভাবিক সময়ে ৭৩তম ও ৭৪তম অধিবেশনে এই সংখ্যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৪৪ ও ৩৩৫ জনে। এমনকি কভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও সরকারি ব্যয়সংকোচনের ঘোষণার মধ্যেও ৭৮তম অধিবেশনে সফরসঙ্গী ছিলেন ১৪৬ জন। সেই তুলনায় এবার মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানোকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয়ের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও প্রত্যাবর্তন

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী সকল রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের। পররাষ্ট্র সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের সকল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment