বিনোদন ডেস্ক, ডেইলি পূর্বাচল
ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুই আলোচিত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি (পরীমনি) ও মুনমুন আক্তার লিজা (ময়ূরী)। তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য, বক্স অফিস পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক আদালতের ঘটনা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।
ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিতর্ক ও গ্ল্যামার বরাবরই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। রূপালি পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে তারকাদের ব্যক্তিজীবন, আদালতের এজলাস কিংবা সাংবাদিকদের সাথে আচরণ প্রায়শই খবরের শিরোনাম হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে চিত্রনায়িকা পরীমনির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জামিন শুনানির দিনে সমকালের এক সাংবাদিক ফুটেজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাছে গেলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে ক্যামেরার ট্রাইপড ভাঙচুরের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময়কার এই ঘটনাটি সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পাড়াতেও বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পর সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের মাঝে ঢালিউডের বাণিজ্যিক সিনেমার সফলতা এবং তারকাদের প্রকৃত ক্যারিয়ার গ্রাফ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনেকেই বর্তমান প্রজন্মের শীর্ষ আলোচিত নায়িকা পরীমনির সাথে নব্বই ও শূন্য দশকের দাপুটে নায়িকা ময়ূরীর বাণিজ্যিক সফলতার একটি তুলনামূলক চিত্র সামনে নিয়ে আসছেন।
ব্যবসায়িক পরিসংখ্যানে ময়ূরী: মূল ধারার বাণিজ্যিক সাফল্য
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ঢালিউডে আগমন ঘটে মুনমুন আক্তার লিজার, যিনি রূপালি পর্দায় ‘ময়ূরী’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে ‘মৃত্যুর মুখে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশকে প্রায় ৩০৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। যদিও ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশে তাঁর বিরুদ্ধে অশ্লীলতার দায় ছিল, তবুও ঢালিউডের মূল ধারার বাণিজ্যিক ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় তাঁর অবদান এবং ব্যবসায়িক সাফল্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
ময়ূরীর ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চার সতীনের ঘর (২০০৫): প্রখ্যাত লেখিকা সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে এবং নার্গিস আক্তারের পরিচালনায় এই সামাজিক সিনেমাটিতে চিত্রনায়ক আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সুধীমহলে তুমুল প্রশংসা কুড়ান।
- কুখ্যাত খুনী ও ঢাকাইয়া মাস্তান: প্রয়াত মেগাস্টার মান্না এবং শীর্ষ নায়িকা মৌসুমীর সাথে অভিনীত এই অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাগুলো সে সময়ে বক্স অফিসে ব্যাপক ঝড় তুলেছিল এবং প্রেক্ষাগৃহে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটিয়েছিল।
- হীরা চুনি পান্না (২০০০): শাকিব খান ও আমিন খানের সাথে অভিনীত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাকশন-রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্র।
- অন্যান্য ব্যবসাসফল ছবি: এছাড়া ‘মগের মুল্লুক’ (১৯৯৯), ‘জবর দখল’ (১৯৯৯), ‘ভয়ংকর সন্ত্রাসী’ (২০০১), ‘রংবাজ বাদশা’ (২০০১) এবং ‘ভাইয়ের শত্রু ভাই’ (২০০৪) সিনেমাগুলো সে সময়ে প্রযোজকদের লগ্নি তুলে এনে বড় ধরনের বাণিজ্যিক মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল।
গ্ল্যামার বনাম বক্স অফিস: পরীমনির ২৪ সিনেমার সমীকরণ
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডলের ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রেখেই গ্ল্যামার ও বিপুল প্রচারের আলোয় চলে আসেন শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই রেকর্ডসংখ্যক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঢালিউড পাড়ায় হৈচৈ ফেলে দিলেও দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁর অভিনীত ২৪টি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ১৯টিই বক্স অফিসে ফ্লপ বা ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫টি সিনেমায় তাঁর অভিনয় এবং সাবলীল রূপ সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
প্রশংসিত ও সফল ৫টি কাজ:
১. স্বপ্নজাল (২০১৮): গিয়াস উদ্দিন সেলিমের এই সিনেমায় ‘শুভ্রা’ চরিত্রে সাবলীল ও নিখুঁত অভিনয় পরীমনির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট। ছবিটি বক্স অফিসে দীর্ঘস্থায়ী না হলেও সুধীমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়।
২. বিশ্বসুন্দরী (২০২০): করোনাকালের চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও চয়নিকা চৌধুরীর এই সিনেমাটি টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলে অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করে।
৩. রক্ত (২০১৬): বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার এই অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে তাঁর সাহসী ও মারকাট রূপ দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে।
৪. গুণীন (২০২২): ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহে প্রশংসিত গ্রামীণ লোকজ পটভূমির এই চলচ্চিত্রে ‘রাবেয়া’ চরিত্রে ব্যতিক্রমী অভিনয় করেন তিনি।
5. মা (২০২৩): মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে এক সংগ্রামী মায়ের ভূমিকায় তাঁর আবেগঘন ও পরিণত রূপ সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।
১. স্বপ্নজাল (২০১৮): গিয়াস উদ্দিন সেলিমের এই সিনেমায় ‘শুভ্রা’ চরিত্রে সাবলীল ও নিখুঁত অভিনয় পরীমনির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট। ছবিটি বক্স অফিসে দীর্ঘস্থায়ী না হলেও সুধীমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়।
২. বিশ্বসুন্দরী (২০২০): করোনাকালের চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও চয়নিকা চৌধুরীর এই সিনেমাটি টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলে অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করে।
৩. রক্ত (২০১৬): বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার এই অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে তাঁর সাহসী ও মারকাট রূপ দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে।
৪. গুণীন (২০২২): ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহে প্রশংসিত গ্রামীণ লোকজ পটভূমির এই চলচ্চিত্রে ‘রাবেয়া’ চরিত্রে ব্যতিক্রমী অভিনয় করেন তিনি।
5. মা (২০২৩): মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে এক সংগ্রামী মায়ের ভূমিকায় তাঁর আবেগঘন ও পরিণত রূপ সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।
বক্স অফিসে ফ্লপ হওয়া ১৯টি সিনেমা:
ক্যারিয়ারের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে গ্ল্যামারের আলো ছড়ালেও পরীমনির অধিকাংশ ব্যবসাই বক্স অফিসে সফলতার মুখ দেখেনি। যার মধ্যে রয়েছে— প্রথম ছবি ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ (২০১৫), ‘পাগলা দিওয়ানা’ (২০১৫), ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ (২০১৫), ‘লাভার নাম্বার ওয়ান’ (২০১৫), ‘নগর মাস্তান’ (২০১৫), এবং মৈমনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নির্মিত ‘মহুয়া সুন্দরী’ (২০১৫)। এছাড়া ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ (২০১৬), ‘পুড়ে যায় মন’ (১৬), ‘ধূমকেতু’ (১৬), ‘অন্তর জ্বালা’ (২০১৭), ‘আপন মানুষ’ (১৭), ‘ইনোসেন্ট লাভ’ (১৭), ‘সোনা বন্ধু’ (১৭), ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ (২০১৯), ‘স্ফুলিঙ্গ’ (২০২১), ‘মুখোশ’ (২০২২), ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ (২০২৩) এবং ওয়েব চলচ্চিত্র ‘পাফ ড্যাডি’ (২০২৩) ব্যবসায়িকভাবে বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।
ক্যারিয়ারের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে গ্ল্যামারের আলো ছড়ালেও পরীমনির অধিকাংশ ব্যবসাই বক্স অফিসে সফলতার মুখ দেখেনি। যার মধ্যে রয়েছে— প্রথম ছবি ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ (২০১৫), ‘পাগলা দিওয়ানা’ (২০১৫), ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ (২০১৫), ‘লাভার নাম্বার ওয়ান’ (২০১৫), ‘নগর মাস্তান’ (২০১৫), এবং মৈমনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নির্মিত ‘মহুয়া সুন্দরী’ (২০১৫)। এছাড়া ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ (২০১৬), ‘পুড়ে যায় মন’ (১৬), ‘ধূমকেতু’ (১৬), ‘অন্তর জ্বালা’ (২০১৭), ‘আপন মানুষ’ (১৭), ‘ইনোসেন্ট লাভ’ (১৭), ‘সোনা বন্ধু’ (১৭), ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ (২০১৯), ‘স্ফুলিঙ্গ’ (২০২১), ‘মুখোশ’ (২০২২), ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ (২০২৩) এবং ওয়েব চলচ্চিত্র ‘পাফ ড্যাডি’ (২০২৩) ব্যবসায়িকভাবে বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।


