অর্থনীতি

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ৫ দফা জরুরি আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ডেইলি পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা / নিউইয়র্ক প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় সামান্য হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এমন বাস্তবতায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বিশ্বনেতাদের সামনে এই জোরালো দাবি তুলে ধরেন তিনি।

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও জিডিপিতে ক্ষতি

সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলবায়ুজনিত কারণে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

জলবায়ু অভিযোজনে সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ

নিজস্ব অর্থনীতিতে চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু মোকাবিলায় পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:

  • বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা।

  • নদী ও খাল পুনরুজ্জীবিতকরণ: পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন।

  • মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন: পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা।

পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার ইকোনমির মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ও জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ৫টি জরুরি প্রস্তাব

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ৫ দফা জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান:

  1. গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস: প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

  2. সহজলভ্য অর্থায়ন: জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

  3. ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক উত্তরণ: জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

  4. নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ: সহজলভ্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

  5. ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল: লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণ নিশ্চিত করা।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’—এই নীতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতের টেকসই পৃথিবী গঠনে বিশ্ববাসীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment