অর্থনীতি

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চূড়ান্ত নীতিমালা: নিবন্ধন ফি, চার্জিং নিয়ম ও জোন ভাগ – দৈনিক পূর্বাচল

  • রাজধানীতে ৮ জোনে ৮ রঙের ই-রিকশা। ড্রাইভিং লাইসেন্স না লাগলেও বাধ্যতামূলক বুয়েটের ফিটনেস সনদ ও ট্রাফিক প্রশিক্ষণ। পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলের বিস্তারিত প্রতিবেদন।

  • প্রতিবেদন: সোহেল হাওলাদার

    নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অলিতে-গলিতে থাকা ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা (অটোরিকশা) চলাচলে আনায় উদ্যোগী হয়েছে সরকার। শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ ও ‘সংশোধন আইন, ২০২৬’-এর অধীনে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের এই প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

 নীতিমালার প্রধান প্রধান নিয়ম ও শর্তাবলী

১. নিবন্ধন ও চালকের প্রশিক্ষণ

  • লাইসেন্স ছাড়: চালকদের আলাদা ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না, তবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

  • নিবন্ধন ফি: দুই যাত্রী বহনকারী রিকশার নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা এবং চার যাত্রীর জন্য ১০,০০০ টাকা। জেলা ও গ্রামে ৬ যাত্রীর রিকশাও অনুমোদিত হবে।

  • এনআইডি সীমা: একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশার নিবন্ধন পাওয়া যাবে।

  • বুয়েট প্রত্যয়ন ও ফিটনেস: বুয়েট বা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে অনুমোদিত নকশার প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে ফিটনেস সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

২. ঢাকায় ৮ জোনে ৮ রঙ ও চলাচলের এলাকা

  • জোন ও রঙ: রাজধানী ঢাকাকে ৮টি জোনে ভাগ করে ৮ রঙের ই-রিকশা নির্দিষ্ট করা হবে। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না।

  • যেসব স্থানে নিষেধ: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাস চলাচলের প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। এগুলো কেবল অভ্যন্তরীণ গলি বা সংযোগ সড়কে চলবে।

  • গতিসীমা ও মেয়াদ: স্কুল, হাসপাতাল ও উপাসনালয়ের কাছে সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক মেয়াদ ধরা হয়েছে ১২ বছর।

৩. পরিবেশ ও চার্জিং পয়েন্ট লাইসেন্স

  • সৌরবিদ্যুৎ চার্জিং: অননুমোদিত চার্জিং ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার লাইসেন্স নিয়ে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে।

  • ব্যাটারি বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: পুরাতন বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা মাঠে, জলাশয়ে ফেলা বা পোড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

জরিমানা: নিবন্ধন ছাড়া চলাচল ও নীতিমালার নির্দেশ ভঙ্গ করলে অনধিক ৫,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

 যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

মীর শাহে আলম (প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগ):

“সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। ভেটিং শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।”

অন্যদিকে চালকদের লাইসেন্স ও কঠোর আইনি কাঠামোর দাবি জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সাইদুর রহমান (নির্বাহী পরিচালক, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন):

“ই-রিকশা দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু বেশি। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।”

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী (মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি):

“দেশে প্রায় ৮০ লাখ ও কেবল রাজধানীতেই ১২ লাখ অটোরিকশা চলছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় অগণিত মানুষ পঙ্গু হচ্ছেন। নীতিমালার সাথে চালকদের খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যুক্ত করা জরুরি।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment