বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক পূর্বাচল:
অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে কোন কোন আইনে প্রতিকার পাবেন, অভিযোগ করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন। বিশদ পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
অনলাইন শপিং আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করলেও এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানামুখী ডিজিটাল প্রতারণা। সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া অনলাইন শপ খোলা, অর্ডার নিয়ে পণ্য না দেওয়া, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিম্নমানের বা ভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা কিংবা অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাশ না হয়ে সচেতন হওয়া এবং আইনের আশ্রয় নেওয়া জরুরি। দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর আওতায় এ ধরনের ই-কমার্স প্রতারণার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ও ভোক্তার অধিকার
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা, ২০২১’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি অনলাইন বিক্রেতাকে পণ্যের সঠিক বিবরণ, মূল্য, ডেলিভারি পদ্ধতি, ক্রয়-বিক্রয় এবং পণ্য ফেরতের (রিটার্ন) স্পষ্ট শর্তাবলী ওয়েবসাইটে বা পেজে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
প্রতারিত হলে করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি
অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রথমেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি সংরক্ষণ করতে হবে:
-
অরিজিনাল অর্ডারের স্ক্রিনশট।
-
বিক্রেতার ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংক।
-
ইনভয়েস/রসিদ ও বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের বার্তা বা চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট।
-
টাকা পাঠানোর ডিজিটাল মাধ্যম (বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক) লেনদেনের স্টেটমেন্ট ও ট্রানজেকশন আইডি।
-
বিক্রেতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
প্রমাণাদি সংরক্ষণের পর ভোক্তা সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে (DNCRP) লিখিত বা অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধিদপ্তর প্রতারক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে।
ফৌজদারি অপরাধ ও সাইবার সুরক্ষা আইন
অনলাইনে প্রতারণার উদ্দেশ্যে অর্থ আত্মসাৎ করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
-
দণ্ডবিধি, ১৮৬০: এর ৪১৫ ধারা অনুযায়ী প্রতারণার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং ৪২০ ধারায় প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
-
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬: ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতি বা ফেক পেজ খুলে প্রতারণার ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে।
প্রতারণার মাত্রা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অথবা সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থাকে সংগৃহীত প্রমাণাদি জমা দিলে তারা অপরাধীকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


