আদালত প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা: ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির শুনানির পর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একাধিক সাবেক ও বর্তমান পরিচালক—মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জি. আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল করিম।
মামলার এজাহারে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে এবং অভিযোগ করা হয়েছে যে, ‘এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক’ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের বিবরণ
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এবং পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান হন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ব্যাংকের অডিট কমিটিরও সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি পদটি ত্যাগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪.৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট আর্থিক মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের একটি কোম্পানির পক্ষে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করা চরম আর্থিক অসঙ্গতিপূর্ণ। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ও পরস্পরের যোগসাজশে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছিল ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যার সিংহভাগই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস ও লেনদেনের তারিখ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ একই ছিল—যা প্রমাণ করে পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট কারসাজির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংঘবদ্ধ কৌশল অবলম্বন করে ইসলামী ব্যাংকের ওপর একক দখল প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


