বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বাচল:
জ্বালানি খাতের চাপ ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ও আইএমএফের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশদ জানতে পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
জ্বালানি খাতে বাড়তি ভর্তুকির ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের বড় ধরনের সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে মোট ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রত্যাশা করছে সরকার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভার প্রথম দিনেই বাংলাদেশের ঋণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩ বছরের ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’
বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সরকারকে জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ বাড়তি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি ‘সুরক্ষাবলয়’ তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যার মাধ্যমে আগামী তিন বছরের সহায়তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
পর্যায়ক্রমে সংস্কার শর্ত বাস্তবায়নে গুরুত্ব
আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা দুটির শর্ত বা সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে বাংলাদেশের রূপরেখার বড় কোনো দ্বিমত নেই। তবে সংস্থাগুলোর সমস্ত শর্ত একযোগে চাপিয়ে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ।
ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ থেকে ৮ বছরে ব্যাংক খাতের উন্নয়নে প্রতি বছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বেসরকারি ইকুইটি খাত থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গ্রাহকদের আমানত নিয়ে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল তা এখন কেটে গেছে। ব্যাংকে নিট আমানত বাড়ছে এবং শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক ধারা ফিরতে শুরু করেছে।”
চালু হলো বিশ্বব্যাংকের ‘ফিলানথ্রপি হাব’
সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বৈশ্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দানশীল ব্যক্তি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর মূলধন ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ‘ফিলানথ্রপি হাব’ নামে একটি নতুন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্যাসকেল ডোনেট এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। এই উদ্যোগের আওতায় এশিয়ার শীর্ষ সামাজিক সংস্থা ‘এভিপিএন’ এবং ‘টেমাসেক ট্রাস্ট’-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।


