অন্যান্য

বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল ও ডিমান্ড চার্জে গ্রাহক অসন্তোষ | দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা:দৈনিক পূর্বাচল

বিদ্যুতের নতুন দাম ও অতিরিক্ত ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাট নিয়ে বাড়ছে গ্রাহক অসন্তোষ। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিল নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জুন মাসে বিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারিত হওয়ার পর থেকেই শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত—প্রিপেইড ও পোস্টপেইড উভয় মিটার ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় ও নানা লুক্কায়িত চার্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দেশজুড়ে চলা বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জের নামে অর্থ কর্তন নিয়ে ভোক্তাদের মাঝে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়েছে।

স্ল্যাবভিত্তিক মূল্য ও অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে মোট সাতটি স্ল্যাব বা স্তর রয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৪০০ ইউনিটের বেশি খরচ করলে প্রতি ইউনিটের দাম পড়ে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিট ছাড়িয়ে গেলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা প্রতি ইউনিট। এই ব্যবহৃত বিদ্যুতের দামের সঙ্গে যুক্ত হয় নির্দিষ্ট ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট।

পোস্টপেইড মিটারে ব্যবহৃত ইউনিটের হিসাবের পাশাপাশি কিলোওয়াট প্রতি ৪২ টাকা হারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, পূর্ববর্তী মাসের বকেয়া এবং বিলম্ব মাশুল আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে। অন্যদিকে, প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার সময় এই চার্জ ও ভ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ বিদ্যুতের দাম হিসেবে প্রদর্শিত হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও কেবল সংযোগ সচল রাখার কারণে প্রতিমাসেই গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়ার হিসাব

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ট্রান্সফরমার, বিতরণ লাইন ও সংযোগ প্রস্তুত রাখার ফি হিসেবে ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয়। আবাসিক খাতে প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য এই চার্জ নির্ধারিত রয়েছে ৪২ টাকা। অর্থাৎ, কোনো গৃহস্থালির লোড ২ কিলোওয়াট হলে তাকে অতিরিক্ত ৮৪ টাকা এবং ১০ কিলোওয়াট হলে ৪২০ টাকা শুধু ডিমান্ড চার্জ বাবদ দিতে হয়। তবে কারিগরি জ্ঞান না থাকায় অনেক গ্রাহক সংযোগ নেওয়ার সময় অতিরিক্ত লোড নিয়ে ফেলায় প্রতিমাসে বড় অংকের ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনো কোনো গ্রাহকের ১৫ কিলোওয়াট লোডের বিপরীতে শুধু ডিমান্ড চার্জ ও থ্রি-ফেজ মিটারের আড়াইশ টাকা ভাড়াসহ মাস শেষে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, বিতরণ সংস্থাগুলো রাজস্ব আহরণ ও বকেয়া সমস্যা দূর করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে। সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের দাম ৬ হাজার টাকা ধরে ১০ বছরের (১২০ মাস) মেয়াদে মাসিক ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা ধরে মাসিক ২৫০ টাকা হারে মিটার ভাড়া আদায় করা হয়। এই ১০ বছরের মধ্যে মিটার নষ্ট হলে বিনা মূল্যে তা পরিবর্তনের নিয়ম রয়েছে।

ভোক্তাদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গেই মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেওয়ার পর বাকি টাকা ব্যালেন্স হিসেবে দেখানো হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ গ্রাহকদের মনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।

সোহেল হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment