নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:
‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা’ পৌঁছে দেওয়ার সরকারি ঘোষণা ও উদ্যোগের বাস্তব চিত্র নিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত কর্মদিবসে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। আবার কিছু কার্যালয় খোলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরেজমিন পরিদর্শনে এই চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি অনুপস্থিত। কোনো কোনো কার্যালয়ের মূল দরজায় ঝুলছে তালা। আবার কিছু দপ্তরের ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সচল থাকলেও চেয়ারে দেখা মেলেনি কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর।
স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্তে দপ্তরে উপস্থিত থেকে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মকর্তাদের অফিসে না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। পাহাড়ী জনপদের এই উপজেলাটিতে দুর্গম পথ পেরিয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
এদিকে, সরকারি দপ্তরের এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু ছবিসহ একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি স্থানীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়—সকাল ১১টার মতো ব্যস্ত সময়েও একাধিক সরকারি কার্যালয় তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আর যে অফিসগুলো খোলা রয়েছে, সেখানে টেবিল-চেয়ার ও ফ্যান সচল থাকলেও চেয়ারগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, নেই কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে এবং সরকারের সেবাধর্মী উদ্যোগগুলো ভেস্তে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ির এসব সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


