অর্থনীতি

বিদ্যুৎ সংকট ও সংসদীয় বিতর্ক: কাঠামোগত বাস্তবতার বাইরে দায় চাপানো কতটা যৌক্তিক?

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল একজন মন্ত্রীর সমালোচনা নয়; বরং দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত বাস্তবতাকে পাশ কাটানোর শামসুল বা একপেশে প্রবণতা। দেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দীর্ঘ বিতরণ লাইন এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা।

বিদ্যুৎ খাতের মূল সমস্যাসমূহ:

  • দীর্ঘ ওভারহেড লাইন: গ্রামাঞ্চলে একটি ফিডার লাইন ৩০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হওয়ায় ত্রুটি শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগে।

  • পরিবেশগত ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতা: ঝড়-বৃষ্টিতে গাছের ডাল পড়ে শর্ট সার্কিট এবং প্রায় ৭৫ শতাংশ ফল্ট সিঙ্গেল লাইন-টু-গ্রাউন্ডের কারণে ঘটে থাকে।

  • ভোল্টেজ ড্রপ ও ওভারলোড: উপকেন্দ্র থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ায় ভোল্টেজ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার সমস্যা নিয়মিত ঘটে।

সংসদে বা সামাজিক মাধ্যমে এককভাবে বিদ্যুৎমন্ত্রীকে দায়ী করা বা তির্যক মন্তব্য করার মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যা আড়াল করা হয়। বিদ্যুৎ খাতের মতো একটি বিশাল এবং জটিল ব্যবস্থায় রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এটি বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সংকট।

সমাধানের পথ:

  • উৎপাদনের পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্মার্ট গ্রিড ও অটোমেটিক রিক্লোজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা।

  • দীর্ঘ ফিডারগুলোর ওপর চাপ কমাতে নতুন সাবস্টেশন ও উপকেন্দ্র নির্মাণ করা।

  • মাঠপর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি এবং জরুরি যন্ত্রপাতির আঞ্চলিক রিজার্ভ মজুত নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কেবল রাজনৈতিক সমালোচনা বা দায় চাপানো নয়, বরং নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত সবার সম্মিলিত ও বাস্তবসম্মত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment