অর্থনীতি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উৎপাদিত কাঁকরোল এখন মধ্যপ্রাচ্যে, লাভবান হচ্ছেন বির্তুল গ্রামের কৃষকরা

স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বির্তুল গ্রামের কাঁকরোল। রপ্তানি বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কৃষকদের জীবনে। দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বির্তুল গ্রামের উৎপাদিত কাঁকরোল এখন স্থানীয় বাজারের সীমানা পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানির এই দারুণ সুযোগ তৈরি হওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। নিরাপদ ও বিষমুক্ত উপায়ে সবজি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ এই জনপদের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মাচায় চাষ ও কৃষকদের ব্যস্ততা বালু নদীর পাড়ঘেঁষা বির্তুল গ্রামের বিভিন্ন ক্ষেতে বর্তমানে বাঁশ ও সুতার মাচায় সুবজ লতায় ছড়িয়ে আছে কাঁকরোল গাছ। ভোরবেলা থেকেই ক্ষেতের পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এলাকার স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর বাছাই করা উৎকৃষ্ট মানের কাঁকরোল সংগ্রহ করে সরাসরি নিয়ে যাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

দীর্ঘদিন ধরে এক বিঘা জমিতে কাঁকরোল চাষ করে আসছেন গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল লতিফ মোল্লা। তাঁর মতে, সঠিক পরিচর্যা এবং জৈব সার ব্যবহার করায় ক্ষেতে ফলন বেশ ভালো হয় এবং বাজারেও এর সন্তোষজনক দাম পাওয়া যায়।

একইভাবে, সিঙ্গাপুরে প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন নীল কমল চন্দ্র দাস। তিনিও প্রায় এক বিঘা জমিতে কাঁকরোল চাষ করছেন এবং ইতিমধ্যে তাঁর উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচ উঠে এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমের শেষ দিকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা কৃষক।

গ্রেডিং ও রপ্তানি প্রক্রিয়া রপ্তানির ক্ষেত্রে কাঁকরোলের গুণগত মান বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। উৎপাদিত কাঁকরোলগুলো সাধারণত ‘গ্রেড-এ’ এবং ‘গ্রেড-বি’ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে উন্নতমানের কাঁকরোলগুলো রপ্তানিকারকরা সংগ্রহ করেন এবং বাকি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে কৃষিপণ্য রপ্তানির সাথে যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় রপ্তানিকারক শরীফ সরকার। তিনি জানান, অতীতে বরবটি ও লাউ রপ্তানি করলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলোতে কাঁকরোলের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি থাকায় তারা এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসিবুল হাসান জানান, বির্তুল গ্রামের কৃষকরা দীর্ঘকাল ধরেই নিরাপদ সবজি চাষ করে আসছেন। কাঁকরোল চাষে তাদের এই সাফল্য অন্যান্য এলাকার কৃষকদের জন্যও দারুণ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির কারণে কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখছেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কৃষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কাঁকরোলের এই রপ্তানি বাজার আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে বালু নদীর পাড়ের বির্তুল গ্রামের আরও বহু কৃষকের জীবিকায় যুক্ত হবে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও নতুন সম্ভাবনার ছোঁয়া।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment