দৈনিক পূর্বাচল :
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তীব্র বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং সারের কৃত্রিম সংকট—এই তিন ইস্যুতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষার মুখে পড়েছে বর্তমান সরকার। কেবল বিরোধী দলই নয়, খোদ ক্ষমতাসীন বিএনপি দলের সংসদীয় কমিটির সভায়ও এসব বিষয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)।
সংসদীয় দলের সভায় ক্ষোভ ও বিতর্ক
গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতেই একাধিক সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকার লোডশেডিং, অপরাধ বৃদ্ধি ও সার সরবরাহ নিয়ে ক্ষোভ জানান।
-
আইনশৃঙ্খলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে কিছু স্থানে ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে এবং বিগত সরকারের আমলে নির্যাতনে জড়িত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলে এমপিরা অভিযোগ তোলেন।
-
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে শহর ও গ্রামের লোডশেডিংয়ে ভারসাম্য আনার আশ্বাস দেন তিনি।
-
সার পরিস্থিতি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে ‘স্যাবোটাজ’ বা কারসাজি করা হচ্ছে।
সংকটের মূল চিত্র
-
আইনশৃঙ্খলা: বিগত সাত মাসে নিপীড়নমূলক গুম-খুন না হলেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ৭৫ জনসহ প্রায় দুই হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দিনে-দুপুরে গুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং পুলিশ বাহিনীর ওপর আক্রমণ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
-
বিদ্যুৎ ও গ্যাস: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক এলএনজি সংকট এবং দেশীয় টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ২৯ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে গড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ায় গ্রাম ও শহরে সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে।
-
সার কারসাজি: অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারের চাহিদা ৪০.২৯ লাখ টন, যেখানে মজুদ রয়েছে ৫৪.৪৮ লাখ টন। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিতরণ ব্যবস্থার সিন্ডিকেট ও ডিলারদের কারসাজির কারণে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃত্রিম অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ চরম হুমকির মুখে পড়বে


