অন্যান্য অর্থনীতি

ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ: দেড় মাসে আড়াই শতাধিক পশুর মৃত্যু

দৈনিক পূর্বাচল ডেস্ক:

পাবনার ঈশ্বরদীতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (LSD)। গত দেড় মাসে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মারা গেছে আড়াই শতাধিক গরু। সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধকের সংকটে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।

ঈশ্বরদীতে লাম্পি স্কিন পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র

  • আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার: উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঈশ্বরদীতে প্রায় এক লাখ গরুর মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত পূর্ণবয়স্ক গরুর মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ হলেও বাছুরের ক্ষেত্রে এই হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকেছে।

  • মূলধন হারানোর আতঙ্ক: সঠিক চিকিৎসার অভাবে প্রান্তিক খামারিরা লোকসান ও মূলধন হারানোর আশঙ্কায় আক্রান্ত ও ঝুঁকি থাকা গরু নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

  • ভ্যাকসিন সংকট: প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েও ভ্যাকসিন না পেয়ে কেবল মৌখিক পরামর্শ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে খামারিদের। ২,৫০০ টাকা মূল্যের এই ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ বাড়াতে ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত সাড়া মেলেনি বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেন এবং পশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত হওয়ার আগেই ভ্যাকসিন দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে নিম্নে উল্লিখিত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:

  • আলাদা রাখা ও মশারি ব্যবহার: আক্রান্ত গরুকে দ্রুত মূল শেড থেকে আলাদা করে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে মশা-মাছির মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার না ঘটে।

  • খামারের পরিচ্ছন্নতা: খামার ও চারপাশের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

  • আক্রান্ত গাভীর দুধ: রোগাক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে না খাইয়ে তা মাটিতে পুতে ফেলা উচিত।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment