নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত জি২০ ভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও নতুন কোনো নিয়ম তৈরি না করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ‘ক্যারোলিনা প্রিন্সিপলস’ (Carolina Principles)-এর মূল বার্তা হলো—এআই প্রযুক্তির জন্য সম্পূর্ণ পৃথক বা নতুন কোনো প্রবিধান তৈরি না করে, বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ বজায় রাখা এবং কেবল অভূতপূর্ব বা অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট নতুন নিয়ম আনা।
ক্যারোলিনা প্রিন্সিপলস ও বৈশ্বিক অবস্থান
মার্কিন প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস বৈঠকে এই নীতিটি উপস্থাপন করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে চীন সরকারও এই নীতিতে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছে।
আমেরিকান প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই মার্কিন অবস্থানের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত সরকারি নিয়মকানুন ও বাধ্যবাধকতা এআই মডেল প্রকাশের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রাতিষ্ঠানিক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি নেতাদের বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি নেতাদের বক্তব্যে নীতিগত ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:
-
মার্ক জাকারবার্গ (সিইও, মেটা): ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উন্মুক্ত বা ওপেন-ওয়েট (Open-weight) এআই মডেলে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেন।
-
ইলন মাস্ক (সিইও, স্পেসএক্স ও টেসলা): ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর প্রযুক্তি নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। এর পাশাপাশি এআই ডেটা সেন্টারগুলোর বিপুল শক্তি চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন জ্বালানি উৎস গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
-
ডেমিস হ্যাসাবিস (সিইও, গুগল ডিপমাইন্ড): বিপরীত অবস্থান নিয়ে তিনি এআই সিস্টেমের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এড়াতে শক্তিশালী ও কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা (Safety testing) চালুর অনুরোধ জানান।
ভূ-রাজনীতি ও টেক-আধিপত্যের প্রতিযোগিতা
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজার যেন আমেরিকান ইকোসিস্টেমের অধীনেই থাকে। বিশেষ করে চীনের দ্রুত বিকাশমান ও শক্তিশালী এআই সক্ষমতার কারণে অন্যান্য দেশ যেন মার্কিন প্রযুক্তি কাঠামোর বাইরে চলে না যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সচেষ্ট।
আগামী ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের (G20 Leaders’ Summit) আগে নর্থ ক্যারোলিনার এই বৈঠককে বিশ্ব রাজনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসন এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
(সূত্র: রয়টার্স)


