অর্থনীতি

রেকর্ড লোডশেডিং: বকেয়ার অজুহাত ও বিদ্যুৎ খাতের বাস্তব চিত্র

দৈনিক পূর্বাচল :

গ্যাস সংকট ও প্রচণ্ড গরমে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জনজীবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বকেয়া বিলের অজুহাতে উৎপাদন বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আইপিপি) মালিকরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এই অচলবস্থা কাটাতে সম্প্রতি অর্থ বিভাগ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ প্রায় ২৫ টাকা, যেখানে পিডিবির ইউনিটপ্রতি লোকসান হবে ১৬ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি পিডিবির আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে।

বিগত সরকারের আমলে প্রতিযোগিতা ছাড়া বিশেষ বিধানের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বরাদ্দ, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রগুলো নিয়মিত বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পাচ্ছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বকেয়া আদায়কে কেন্দ্র করে কেন্দ্র মালিকদের এই অনড় অবস্থান সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ও ক্যাবের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নীতি নির্ধারণী দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি মালিকরা সংকটকালে রাষ্ট্রকে একপ্রকার জিম্মি করে বাড়তি সুবিধা আদায় করছেন। দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই জ্বালানি নীতি গ্রহণ না করলে বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসান ও সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment