অন্যান্য

চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুইটি মোটরসাইকেল ছিনতাই

চুয়াডাঙ্গ প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একই রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি দুই শিশুও। মারধরের পর ভুক্তভোগীদের সড়কের পাশের একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১লা সেপ্টেম্বর ) রাতে ১.৩০ মিনিট আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর-গড়চাপড়া সড়কের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ফরিদপুর গ্রামের বিপ্লব (৩২) মোটরসাইকেলে করে গড়চাপড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। রাতের অন্ধকারে ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ছয়জন মুখোশধারী ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে।
ডাকাতেরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ ২ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। এরপর তাকে সড়কের পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গামছা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
এর কিছু সময় পর একই স্থানে ডাকাত দলের কবলে পড়েন গড়চাপড়া গ্রামের শুকুর আলী (৩০)। তিনি তার দুই শিশুসন্তান সজীব (৫) ও রাজীবকে (৩) নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ডাকাতেরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। পরে শুকুর আলীর ডায়াং ৮০ সিসি মোটরসাইকেল এবং সঙ্গে থাকা সামান্য কিছু টাকা লুট করে নেয় ডাকত দল
এ সময় ভয় পেয়ে দুই শিশু কান্নাকাটি শুরু করলে ডাকাতেরা শিশুদেরও মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুকুর আলীকেও মারধর করা হয়। এরপর বাবা ও দুই শিশুকে পাশের মেহগনি বাগানে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।ভুক্তভোগী শুকুর আলী জানান, প্রায় ১০ মিনিট বাঁধা অবস্থায় থাকার পর পাহারায় থাকা ডাকাত কিছুটা দূরে সরে গেলে তিনি কৌশলে নিজের বাঁধন খুলে ফেলেন। পরে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গ্রামে গিয়ে ঘটনাটি জানান। তার পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ডাকাতেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অপর ভুক্তভোগী বিপ্লবও কৌশলে নিজের বাঁধন খুলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর ফরিদপুর-গড়চাপড়া সড়কে চলাচল করতে মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানি ইসরাইল বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় একই রাতে পরপর দুটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হলে রাতের পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment