ঢাকা:
চীনের স্টেম শিক্ষা ব্যবস্থার মডেল অনুসরণ করে কীভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিপ্লব আনা সম্ভব, তা নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য গতির সঙ্গে তাল মেলাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এসটিইএম (STEM)—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও বায়োটেকনোলজির যুগে চাকরি কিংবা ব্যবসা—সবক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকার মূল রসদ এখন এই চার খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রায়োগিক শিক্ষা। চীন যেভাবে শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে এই খাতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
চীন শুধু উচ্চশিক্ষাতেই নয়, বরং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কোডিং, এআই ও রোবোটিকসকে পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ করেছে। তাত্ত্বিক পড়াশোনার বদলে সেখানে জোর দেওয়া হয়েছে হাতে-কলমে শেখার ওপর। বেইজিং পৌর শিক্ষা কমিশন স্কুলগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার মান বাড়াতে ২০টি নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে, যার আওতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ক্লাসের অন্তত ১০ শতাংশ সময় স্টেম শিক্ষার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিকে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রাথমিক স্কুলে অন্তত একজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অত্যাধুনিক ল্যাব স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবিড় সমন্বয়ের ফলে চীনের শিক্ষার্থীরা গবেষণার ফল সরাসরি শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যায় কাজে লাগাতে পারছে। প্রতি বছর দেশটিতে তৈরি হচ্ছে ৫০ লাখের বেশি স্টেম গ্র্যাজুয়েট।
আমাদের দেশেও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার ঘটানো জরুরি। নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনে স্টেম শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।


