নিজস্ব প্রতিবেদক:দৈনিক পূর্বাচল
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার ঠিক আগে ঘটা এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ) এবং স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান শহরের লুইস মুনিওস মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের প্রাইম এয়ার কার্গো বিমানটি (ফ্লাইট ৭৫৯৮) মিয়ামি বিমানবন্দরে আসছিল। বিমানটি মিয়ামি বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে বাইরে চলে যায় এবং বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী সড়কে চলাচলরত বেশ কয়েকটি যানবাহনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বিমানটিতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের ৬০টিরও বেশি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটির ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়ার পাশাপাশি নিচে থাকা যানবাহনের যাত্রীরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখতে দেশটির ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও এফএএ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।


