নিজস্ব প্রতিবেদক:
“আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়া লাগবে”—এমন বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যা ঘটেছিল সেদিন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রানিগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে যান এএসআই ইলিয়াস হোসেন। তদন্তের একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘুষ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়া লাগবে।’ এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি পুরো বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি দেখার পর তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয় এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


