অর্থনীতি

হাতের মুঠোয় ব্যাংকিং: এলওআই পাচ্ছে ৫ ডিজিটাল ব্যাংক/দৈনিক পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:দৈনিক পূর্বাচল

ডিজিটাল ছোঁয়ায় প্রচলিত শাখা-উপশাখার গণ্ডি পেরিয়ে এবার গ্রাহকের মুঠোফোনেই মিলবে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা। প্রযুক্তিনির্বভর ব্যাংকিংয়ের এই নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বে স্থগিত হওয়া একটিসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস), টেলিযোগাযোগ অপারেটর ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে এসব ব্যাংক চালুর ফলে দেশের আর্থিক খাতের বাজারে তৈরি হবে এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিসর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় যে চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভুটানের ডিকে ব্যাংকের উদ্যোক্তায় ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান’, বিকাশের শেয়ারধারীদের উদ্যোগে ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’, বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোগে ‘বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক’। পাশাপাশি, পূর্বের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইতিপূর্বে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’-কে নতুন শর্তে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আবেদনকালে সাইবার নিরাপত্তাসহ সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শর্ত পূরণের পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাচ্ছে। সবকিছু সঠিক পাওয়া গেলে দ্রুতই তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

কঠোর মূলধন ও নীতিমালার নতুন রূপ: তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রথম ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও নানা প্রক্রিয়া পেরিয়ে সংশোধিত নীতিমালা এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে এবার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবার মূলধনের শর্ত আরও কঠোর করেছে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের নীতিমালায় ছিল ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের পাশাপাশি ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ টেস্ট এবং সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সেবার ধরন ও প্রধান লক্ষ্য: প্রচলিত ব্যাংকের মতো কোনো শাখা, উপশাখা বা ক্যাশ কাউন্টার ছাড়াই সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা জমা ও স্থানান্তর, আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান এবং বিল পরিশোধসহ যাবতীয় সেবা মিলবে হাতের মুঠোয়। এতে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডেটাভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা: ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষা, ডিজিটাল জালিয়াতি রোধ এবং তথ্য চুরির মতো ঝুঁকি মোকাবিলাই হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

–

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment