নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক পূর্বাচল
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সেই সময় ফ্ল্যাটে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ মঞ্জুর সরদার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।
ঘটনাস্থলের বর্ণনা ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য
প্রত্যক্ষদর্শী মঞ্জুর সরদার জানান, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আদালতে যাওয়ার জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাকে ফোন করে ডেকে নেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর ৩টার দিকে তারা ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ৫-৬ জন ব্যক্তি ছিলেন। তারা গেস্টরুমে খাওয়া-দাওয়া করলেও সংসদ সদস্য তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা কক্ষে খাবার খান।
কিছুক্ষণ পর গাজী নজরুল ইসলাম দ্রুত এসে তাকে ভেতর কক্ষে ডাকেন। ভেতরে গিয়ে তারা একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান এবং বহু চেষ্টার পরও তা খুলতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে কক্ষের পেছনের দিকে গিয়ে একটি খোলা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে মরিয়ম খাতুনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন মঞ্জুর।
তিনি জানান, মরিয়মের গলায় ও ফ্যানের সঙ্গে কাপড় জাতীয় কিছু পেঁচানো ছিল এবং কক্ষের ভেতরে একটি চেয়ার ও একটি প্লাস্টিকের টুল পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করতে পারেননি। মরিয়মকে মৃত নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দরজা-জানালা না ভেঙে পুলিশ ও মরিয়মের পরিবারকে খবর দেওয়র সিদ্ধান্ত নেন। পরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ ও মামলা
এদিকে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করে বলেন, সে-ই তার মেয়েকে ঘর থেকে বাইরে বের করাসহ সবকিছু পরিচালনা করত। বিয়ের পর মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন। তবে মেয়ের সঙ্গে কোনো বিরোধ বা সমস্যার কথা তার জানা ছিল না। পুলিশ তাকে কিছু চিঠি দেখালেও লেখার সত্যতা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ
চাঞ্চল্যকর এই মামলায় পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল আদালত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


