প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছিল ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। বৃহস্পতিবার আকস্মিক এই বিভ্রাটের মুখে পড়েন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ ব্যবহারকারী।
সেবা সচল থাকা অবস্থায় প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় অনেকে অস্বাভাবিক আচরণের মুখোমুখি হন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অস্বাভাবিক ফাইল ডাউনলোডের চেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে। চ্যাটজিপিটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও রসিকতা। অনেকেই মজা করে মন্তব্য করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজ না করায় এখন থেকে কাজের জন্য নিজেদের মস্তিষ্কই ব্যবহার করতে হবে।
ওপেনএআইয়ের এই বিভ্রাটের প্রভাব কেবল মূল চ্যাটবটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য ওপেনএআইয়ের এপিআই ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপগুলোও বড় ধরনের সেবা বিঘ্নতার শিকার হয়। এছাড়া চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং সহায়ক টুল কোডেক্সও (Codex) এই বিভ্রাটের কবলে পড়ে।
ওপেনএআইয়ের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পরপরই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং ত্রুটি দূর করার উপায় নিয়ে কাজ করছেন। পরবর্তীতে সমস্যা সমাধানের দাবি করা হলেও, অনেক ব্যবহারকারী জানান যে চ্যাটজিপিটির সেবায় তখনও ‘কর্মক্ষমতার অবনতি’ (Performance Degradation) বজায় ছিল।
অন্যান্য এআই সেবার পরিস্থিতি চ্যাটজিপিটির বড় এই বিভ্রাটের পাশাপাশি অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) চ্যাটবট ‘ক্লড’ (Claude) এবং ইলন মাস্কের প্ল্যাটফর্ম এক্সের (X) চ্যাটবট ‘গ্রক’ (Grok)-এও একই ধরনের কারিগরি ত্রুটির কথা জানান কিছু ব্যবহারকারী। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী এসব প্ল্যাটফর্মে সমস্যার মাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে কম এবং অনেক ব্যবহারকারী কোনো বাধা ছাড়াই সেবাগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন।


