আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হেনেছে ৭ মাত্রার চেয়েও শক্তিশালী দুটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে বিপুল সংখ্যক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫।
ইউএসজিএস সূত্রে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এই জোড়া ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল (এপিসেন্টার)। তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে। ভূমিকম্পের দিন দেশটিতে জাতীয় ছুটি থাকায় অধিকাংশ মানুষই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আর ঠিক সেই সময়েই এই বিধ্বংসী বিপর্যয় নেমে আসে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী এই কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএসজিএস তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও আবাসন কাঠামো ভূমিকম্প-সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি এবং নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার বা তার চেয়েও বেশি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, জোড়া ভূমিকম্পের পর পরই উপকূলীয় এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল ইউএসজিএস; তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

