ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দিলেন শহীদ ফাইয়াজের বাবা, নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন।

বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক হলেন মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শহীদ ফারহান ফাইয়াজ রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন তিনি। তার নির্মম মৃত্যুতে সে সময় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে ফুঁসে ওঠেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া নিজের জবানবন্দিতে ছেলে হত্যার নির্মম ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি সাবেক মন্ত্রী নানক ও সাবেক মেয়র তাপসসহ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মঈনুল করিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার ২৮ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গত ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে, মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রনসহ ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু মানুষ।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   10   =