স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল:
টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার সিংহভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেলেও সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন নগরের বস্তিবাসীরা। মূল শহরের পানি সরাতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো হলেও, কড়াইলসহ অধিকাংশ বস্তির লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে রেকর্ড ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও নগরবাসী। রোববার সন্ধ্যার দিকে মূল শহরের অধিকাংশ এলাকার পানি নামতে শুরু করলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বস্তিগুলোতে।
বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কড়াইল বস্তিতে এখনো কোমর সমান পানি থৈ থৈ করছে। যখন পুরো রাজধানীর মানুষ ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের কাটাতে হয়েছে নির্ঘুম রাত। ছেলে-বুড়ো সবারই আশ্রয় এখন ঘরের খাটের ওপর। ঘরের সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও খাটের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে ডুবে গেছে ঘরের রান্নার চুলা। ফলে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন হাজারো মানুষ; অনেকের পেটে দুপুর থেকে দানাপানিও পড়েনি। কড়াইলের মতো ঢাকার প্রায় সব বস্তির বাসিন্দাদেরই এখন একই দশা।
অভিযোগ উঠেছে, সংকট সমাধানে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন দ্রুত কাজ শুরু করলেও সেই উদ্ধার ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের তালিকায় রাখা হয়নি ঢাকার বস্তিগুলোকে। মূল সড়কের পানি সরানোর জোরালো চেষ্টা থাকলেও বস্তিবাসীদের এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে— আপনা-আপনি কখন নেমে যাবে এই পানি। দুর্যোগের এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় বা সেবামূলক কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বস্তিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের এই চরম মূল্য দিতে হচ্ছে শহরের সবচেয়ে প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে। তারা দ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসহায়তার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

