অনলাইন ডেস্ক, পূর্বাচল |
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করে ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্কিত এই পতাকার কারণে নিষিদ্ধ হতে পারেন লো সেলসো-ওতামেন্দিরা। বিস্তারিত পড়ুন পূর্বাচলে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে রোমাঞ্চকর জয়ের রেশ কাটার আগেই বড় ধরনের আইনি ও শৃঙ্খলাজনিত বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ম্যাচ জয়ের পর মাঠে বিতর্কিত একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের কারণে দলটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় সেই সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠে হাজির হন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। সে সময় তাঁর হাতে একটি পতাকা বা ব্যানার দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল— ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (Las Malvinas son Argentinas), যার অর্থ হলো ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’।
খেলার শুরুতে গ্যালারিতে দর্শকদের হাতে এই ব্যানার দেখা গেলেও, ম্যাচ শেষে সেটি মাঠে নিয়ে আসেন লো সেলসো। রক্ষণভাগের তারকা ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দিও সে সময় তাঁর সাথে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পতাকাটি সরিয়ে রাখা হলেও, পরবর্তীতে তা আবারও মাঠে মেলে ধরে উল্লাস প্রকাশ করা হয়। আর এই ঘটনাটিই এখন আর্জেন্টিনার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই পতাকা নিয়ে বিতর্ক?
স্প্যানিশ শব্দ ‘লাস মালভিনাস’ মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের (Falkland Islands) আর্জেন্টাইন নাম। এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ব্রিটেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অধীনস্থ অঞ্চল, যা আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ডের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
ফকল্যান্ড বিরোধের ইতিহাস:
-
সূচনা: ১৯ শতকের গোড়ার দিকে নেপোলিয়ন যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আর্জেন্টিনা আক্রমণের মাধ্যমে এই বিরোধের সূত্রপাত।
-
দখলদারিত্ব: ব্রিটেন প্রথমে ১৭৭৪ সালে ফকল্যান্ডের দাবি করে এবং পরবর্তীতে ১৮৩২ সালে সেখানে নিজেদের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
-
১৯৮২ সালের যুদ্ধ: ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক সরকার দ্বীপপুঞ্জটি দখলের চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। টানা ৭৪ দিন পর ১৪ জুন আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
ফিফার নিয়ম ও সম্ভাব্য শাস্তি
ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণী সংস্থা আইএফএবি (IFAB) এবং ফিফার আচরণবিধিতে মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত প্রচারণার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আইএফএবি-এর নিয়ম অনুযায়ী:
“খেলোয়াড়দের পোশাকে বা শরীরে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি থাকতে পারবে না। এমনকি নির্মাতার লোগো ছাড়া অন্তর্বাসেও কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে ফিফার।”
পাশাপাশি ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে যে— কোনো ব্যানার, পতাকা, লিফলেট বা পোশাক যা রাজনৈতিক, আপত্তিকর, বৈষম্যমূলক এবং কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক, তা স্টেডিয়ামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সম্প্রতি গত জুন মাসেও লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছিল। ফলে ফকল্যান্ডের মতো সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুকে মাঠে টেনে আনায় আর্জেন্টিনার রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
সাধারণত ম্যাচ শেষে রেফারি এবং ম্যাচ কমিশনারদের দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তাদের শৃঙ্খলা কমিটি। তবে শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

