বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার মূল জল ঘোলা করতে এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতে ‘ডলার’ নামের এক কাল্পনিক চরিত্রের অবতারণা করেছিল প্রধান আসামি সোহেল রানা! তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ধূর্ততার সব জাল ছিন্ন করে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছে। আইনি চাপ আর বিবেকের তাড়নায় শেষমেশ নিজের পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতে করজোড়ে ক্ষমা চেয়েছে খুনি সোহেল।
আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা অন্য অপরাধীদের কুপরামর্শ ও প্ররোচনায় পড়েই মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য এই ‘ডলার’ নাটকের জন্ম দিয়েছিল সোহেল। অথচ তার মূল জবানবন্দিতে এই নামের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে জেলের কয়েদিদের বুদ্ধিতে এই কাল্পনিক গল্প সাজালেও বিজ্ঞ আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের দক্ষতায় তা ভেস্তে যায়।
মামলার নজিরবিহীন কিছু আপডেট:
-
মিথ্যা ‘ডলার’ নাটক উন্মোচন: কারাগারে থাকা অন্য আসামিদের কুপরামর্শে সোহেল রানা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ‘ডলার’ নামের এক কাল্পনিক চরিত্র সাজায়। তবে নিবিড় তদন্ত ও জেরার মুখে তা টিকতে পারেনি।
-
ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম বিচার: বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে মামলার ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
-
সহযোগী স্ত্রী গ্রেফতার: এই জঘন্য অপরাধের পর খুনি সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে এবং সে মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে শেষ করে দেওয়ার পর খুনিরা কীভাবে পার পাওয়ার জন্য নাটকের পর নাটক সাজায়—এই ঘটনা তারই এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের দ্রুত এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপের কারণে খুনিদের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
কোনো কাল্পনিক নাটক বা আইনি ফাঁকফোকর যেন এই পিশাচকে বাঁচাতে না পারে—আজ এটাই সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি। দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে শিশু রামিসা হত্যার দ্রুততম এবং দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির রায়ের।

