নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা: রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে গত মাসের শুরুতে বসানো হয়েছে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। অত্যাধুনিক এই ব্যবস্থার সুফল নাগরিকরা পেতে শুরু করলেও, এটিকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরায় মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ যানবাহন মালিকদের বিভ্রান্ত করে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
যেভাবে পাতা হচ্ছে ফাঁদ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সরকারি ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে মূলত এই প্রতারণা করা হচ্ছে। চক্রটি প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর তাদের মোবাইলে bspbrtcar-payfeebd.icu নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক পাঠানো হয়।
বার্তাটিতে দাবি করা হয়: রাস্তায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থার ভয়ও দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, লিংকে ক্লিক করলেই বিআরটিএর আসল ওয়েবসাইটের হুবহু আদলে তৈরি একটি নকল ওয়েবসাইট (ক্লোন সাইট) সামনে আসে। সেখানে জরিমানা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এটিএম কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের অপশন রাখা হয়েছে। গ্রাহকদের দ্রুত ফাঁদে ফেলতে এবং বিশ্বাস অর্জন করতে মোট জরিমানার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় অফারও দিচ্ছে চক্রটি। কার্ডের তথ্য দিয়ে টাকা পরিশোধ করতে গেলেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে।
বিআরটিএ-এর বক্তব্য
প্রতারক চক্রের এমন অভিনব প্রতারণার বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. হাবীবুর রহমান জানান, মামলা বা জরিমানা আদায়ের বিষয়টি সরাসরি বিআরটিএ-এর এখতিয়ারে নেই। সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন:
“আমরা বিষয়টি জানার পরপরই যাচাই করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে এটি সম্পূর্ণ ফেক (ভুয়া)।”
“জনগণকে কোনোভাবেই এসব মেসেজে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সতর্কবার্তা পুলিশের, বার্তা আসবে নির্দিষ্ট দুটি নম্বরে
প্রতারণার এই অভিনব তৎপরতা ঠেকাতে এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এআই মামলার জরিমানার তথ্য গ্রাহকদের জানাতে ঢাকা মেট্রোপ্লিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্দিষ্ট দুটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “ওই নির্দিষ্ট দুই নম্বরের বাইরে অন্য কোনো নম্বর বা লিংক থেকে পাঠানো বার্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” কোনো অপরিচিত লিংক বা ওয়েবসাইটে ব্যাংকিং কার্ডের তথ্য না দেওয়ার জন্য নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

