পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জ গঠনে নতুন রহস্য, ‘ডলার’ কে?

অনলাইন প্রকাশের সময়: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ | রাত ০৭:৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণ মামলার চার্জ গঠন (অভিযোগ গঠন) শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মূল অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যে মামলাটিতে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বেলা ১১টার পর তাদের বিচারকের এজলাসে তোলা হয়।

আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে চিৎকার করে সোহেল রানা দাবি করেন, “আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।”

নতুন সামনে আসা এই ‘ডলার’-এর পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তার বাড়ি মিরপুর ১১ নম্বরে এবং সে অনেক টাকাওয়ালা। তবে ওই ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সে বলে, “মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।”

আসামির মুখে ‘ডলার’ নামটি আসার পর আদালত পাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখনই এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে ‘ডলার’ সম্পর্কিত এই বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ (বিচারিক বিষয়) হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, “ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ (অব্যাহতি) হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে নির্ধারিত হবে।”

স্পেশাল পিপি আরও বলেন, “মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের পূর্বের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।”

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   2   =