খোলস বদলে বায়েজিদ থানার ওসি, নানা অপকর্মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:

আওয়ামী লীগ আমলে ওবায়দুল কাদেরের এলাকায় শ্রেষ্ঠ ওসি হওয়া আরিফুর রহমান সরকার পতনের পর রাতারাতি বনে গেছেন ছাত্রদল নেতা! বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দিয়ে ভূমি দখল, মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় এবং সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিষোদগারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এর বিশেষ প্রতিবেদন

সরকার পতনের পরপরই খোলস বদলে ভোল্টেজ নেওয়া এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর রাতারাতি নিজেকে ‘ছাত্রদলের সাবেক নেতা’ পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্ব বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় যোগদানের পরও তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও মাদক কারবারিদের সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের এলাকায় ছিলেন ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’

সিএমপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে ওই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ঘুষ কেলেঙ্কারি ও সদরদপ্তরের ব্যবস্থা

পরবর্তীতে ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন দেবিদ্বার এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে নিজের স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিল। এরপর তাকে সিএমপির বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) বদলি করা হয়।

৫ আগস্টের পর রাতারাতি খোলস বদল

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নাটকীয়ভাবে নিজের পরিচয় বদলে ফেলেন আরিফুর রহমান। নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে দাবি করে তদবিরের মাধ্যমে নগরের গুরুত্বপূর্ণ বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসির চেয়ার দখল করেন।

ভূমি দখল ও মাদক কারবারিদের প্রশ্রয়

বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই ওসি আরিফের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় ভূমি দস্যু ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাদের নানামুখী সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও হয়রানির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমের কাছে প্রতিকারও চেয়েছেন।

সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিষোদগার ও অডিও ফাঁস

শুধু অপকর্মই নয়, নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়েও নানা বিষোদগার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ওসি আরিফের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তালিকাভুক্ত এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফুর রহমানের একটি ফোনালাপ (অডিও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই কথোপকথনে নিজের সহকর্মী (পাঁচলাইশের ওসি) সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনা যায় তাকে, যা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বায়েজিদ থানার ওসি আরিফুর রহমান, ওসি আরিফুর রহমান, দৈনিক পূর্বাচল,

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   7   =