ভাণ্ডারিয়ায় প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মারধরের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা এলাকায় সৌদি প্রবাসীর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রবাসীর ভাতিজাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো: জহিরুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জহিরুল মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফলেজা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বুখাইতলা গ্রামের মো: শামছুল হকের ছেলে।

মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের সুখ রঞ্জন দাসের ছেলে সাগর দাস (২২) বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১০২৮) দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় পুলিশ পরবর্তীতে সেটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগের বিবরণী থেকে জানা যায়, মামলার বাদী সাগর দাসের আপন দুই কাকা বাবুল দাস ও অধীর দাস দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি আরবে প্রবাস জীবন যাপন করছেন। সেখানে অবস্থানকালে আসামিদের সাথে যৌথভাবে ঠিকাদারী ব্যবসা করার একটি মৌখিক চুক্তি হয়। সেই সুবাদে ব্যবসার গাড়ি কেনার কথা বলে ১ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম প্রবাসীর নিকট থেকে প্রথমে ৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ব্যবসার আরও বিভিন্ন খরচের অজুহাতে তিনি সর্বমোট ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকা দ্রুত পরিশোধের কথা থাকলেও আসামিরা তা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।

এছাড়াও, গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রবাসীর ছোট কাকার কাছ থেকে আরও ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে আসামিরা আত্মসাৎ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মামলার বাদী সাগর দাস আসামিদের দেখতে পেয়ে পাওনা টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে কোনো প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাদীকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যান।

মঠবাড়ীয়া ও ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে মূল আসামি গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে কষ্টার্জিত টাকা ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 7   +   9   =