ধর্মের লেবাসে প্রতারণার ফাঁদ: নেপথ্যে যখন ব্যবসার হাতিয়ার

অনলাইন ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল

  যারা আল্লাহর আইন মানেন তারাই প্রকৃত মুমিন। কিন্তু সমাজে দাড়ি-টুপি ও নামাজের লেবাসধারী কিছু মানুষ কীভাবে প্রতারণা করছে? দিদার, আব্দুর রহমান ও বাবুল মিয়ার বাস্তব ঘটনা নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।মানুষের জীবনে ধর্ম একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত দাড়ি, টুপি বা ৫ ওয়াক্ত নামাজি মানুষের প্রতি সমাজের একটি আলাদা নজর ও বিশ্বাস থাকে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, এই ধরনের ব্যক্তিরা অন্তত আল্লাহকে ভয় পেয়ে কোনো অন্যায় বা প্রতারণা করবেন না।

কিন্তু বর্তমানে এই পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতি ও লেবাসকে পুঁজি করে একশ্রেণীর মানুষ সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে এবং একে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাস্তবতা হলো, যারা সঠিকভাবে আল্লাহর আইন মেনে চলেন, শুধু আল্লাহ তাআলাকে ভয় পান এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করেন—তারাই হলেন সমাজের প্রকৃত মুমিন। অপরদিকে, যারা কেবল বাহ্যিক ধর্মের লেবাস ধারণ করে ভেতরে অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত থাকে, তারাই মূলত আসল অপরাধী।

মসজিদের সাইনবোর্ডে জমি ব্যবসা ও অর্থ আত্মসাৎ ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার একটি বাস্তব চিত্র দেখা যায় দিদার নামের এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে। তিনি নিজের জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই মসজিদ নির্মাণের উসিলায় তিনি অনেকের টাকা মেরে দিয়েছেন।

এমনকি মসজিদের মিম্বার নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ টাকাও একা আত্মসাৎ করেছেন এই দিদার। পেশায় জমির দালাল দিদারের মূল ব্যবসা এখন মসজিদের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জমি কেনাবেচা করা।

মসজিদ নির্মাণের নামে তিনি অনেকের টাকা মেরে দিলেও তার সহযোগীরা মুখে আল্লাহ তাআলার কথা বললেও দিদারকে কিছুই বলে না। এই ঘটনা দেখে প্রশ্ন ওঠে—তাদের এই নামাজ কিংবা মসজিদ নির্মাণ কি আসলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নাকি দুনিয়াবি ব্যবসার জন্য?

নামাজের আড়ালে শ্রমিকের হক নষ্ট ধর্মীয় লেবাসধারী অপর এক ব্যক্তি আব্দুর রহমান। নাম অত্যন্ত সুন্দর এবং তিনি নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজও পড়েন। কিন্তু তার চারিত্রিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত।

অভিযোগ রয়েছে, এই আব্দুর রহমান অসহায় লেবারদের (শ্রমিকদের) টাকা মেরে খাচ্ছেন। কষ্ট করে কাজ করা এই শ্রমিকরা যখন তাদের পাওনা টাকা চাইতে যায়, তখন তাদের ভাগ্যে জোটে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালাগালি। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পরেও অসহায় মানুষের টাকা মেরে খাওয়া চরম ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

দাড়ি-টুপির আড়ালে মানব পাচারের ব্যবসা একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বাবুল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং তার বেশ বড় দাড়ি রয়েছে।

কিন্তু তার মূল পেশা হলো বিদেশে লোক পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা। সাধারণ মানুষ তার দাড়ি, টুপি এবং নামাজি অবয়ব দেখে বিশ্বাস করলেও, তিনি মূলত মানুষের এই ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদ্রাসায় বলাৎকারের ঘটনা ও দ্বীনি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ব্যক্তিপর্যায়ের এই নৈতিক অবক্ষয় এখন ছড়িয়ে পড়েছে কিছু কিছু দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিństহানেও। ইদানীং বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিনিয়ত বলাৎকারের (যৌন নিপীড়ন) খবর সংবাদে দেখা যাচ্ছে, যা মূলত লেবাসধারী হুজুররাই করছে।

আজকের দিনে এই মাদ্রাসাগুলো সঠিক ইসলাম প্রচারের চেয়ে ব্যবসায়িক দিকটিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা ধর্মকে স্রেফ ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছে।

যার ফলে সমাজে জেনা ও ব্যভিচার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আজ সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন—সমাজে সত্যিকারের আলেম এবং দ্বীনদার মানুষ আসলে কয়জন আছেন?

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন:

সোহেল হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল

  • #ধর্মেরলেবাস #প্রতারণা #দৈনিকপূর্বাচল

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 7   +   10   =