বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। বিস্তারিত দৈনিক পূর্বাচলে।
রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে টঙ্গী নৌ-পুলিশ। উদ্ধারের সময় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
যেভাবে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত
নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় নিহতের পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা, হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন। পকেটে থাকা ফোনের মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে বসবাস করতেন। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল। স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না জানতে চাইলে টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, প্রাথমিক সুরতহালে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যের রহস্য উন্মোচিত হবে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও বাধ্যতামূলক অবসর
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর যে দুই কর্মকর্তা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কে এম তাহসিফ সাউরি ছিলেন অন্যতম (অন্যজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী)।
তৎকালীন প্রকাশিত তথ্যমতে, বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্সের তদন্তে ওই ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের উৎস হিসেবে রিফাত আশরাফী ও তাহসিফ সাউরির নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে এ ঘটনার জেরে উভয় কর্মকর্তাকেই বিমানবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।


