নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলা তীব্র তারল্য সংকট, নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ৯০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংক অবসায়ন (লিকুইডেশন) করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, ১০ বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পদ্মা ব্যাংক পিএলসি (সাবেক ফার্মারস ব্যাংক)।, এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারে সাত বছর আগে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয় পদ্মা।, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, পদ্মা ব্যাংকটির সম্পদ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৩৮ কোটি। তার মধ্যে ৪ হাজার ৯৩৩ কোটি খেলাপি হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৯০ শতাংশ।]; [cite: আর যদি এমন সিদ্ধান্ত হয়, সেটি হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যাংক অবসায়নের ঘটনা।]। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা চলতি মাসেই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে , গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বৈঠক করেছে।…, সেটি অনুমোদনের জন্য চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে।]।
যে কারণে এই সিদ্ধান্ত তৎকালীন রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘ফার্মারস ব্যাংক’ হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই অনিয়মে মুখ থুবড়ে পড়েছিল ব্যাংকটি , ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরুর মাত্র চার বছরের মাথায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে তৎকালীন ফার্মারস ব্যাংক।, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদিত এই ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে আসে।]। ২০১৯ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মা ব্যাংক’ রাখা হয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি [cite: এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারে সাত বছর আগে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয় পদ্মা।, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নতুন করে বিনিয়োগ করেছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। এতেও আসেনি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন। বদনাম ঢাকতে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি দ্য ফার্মারস ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক করা হয়।]। উল্টো ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসান মোট সম্পদ ছাড়িয়ে গেছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে,ব্যাংকটির মন্দ ঋণ, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধন ঘাটতি এতটাই বেশি যে, তা কাটিয়ে ওঠা সাধারণ প্রক্রিয়ায় অসম্ভব।…, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত করতে না পারা, বিপুল খেলাপি ঋণ এবং তারল্য সংকটে থাকা পদ্মা ব্যাংক অবসায়ন করতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।]। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক [cite: এমনকি উত্তরণের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও দেখাতে পারেনি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শুধু ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রত্যাখ্যান করেছে।]।
আমানতকারী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের আটকে থাকা অর্থ বর্তমান বিধান অনুযায়ী, ব্যাংকটি অবসায়ন হলে একজন ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী বা গ্রাহক ব্যাংক আমানত বিমা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন [cite: বিধান অনুযায়ী এই ব্যাংকের একজন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বীমা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।]। সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও আইসিবিসহ প্রায় ৪৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের প্রায় ৩ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা এই ব্যাংকে আটকে রয়েছে , পদ্মা ব্যাংকে ৪৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে।…, এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা পদ্মা ব্যাংকে জমা আছে, যা বছরের পর বছর ফেরত দিতে পারছে না।]।
পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান জানান, ব্যাংকটির আমানত ও মূলধন সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে এবং সঞ্চিত লোকসান সম্পদ ও দায়ের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে , পদ্মা ব্যাংক সম্পর্কে তার ভাষ্য, ‘ব্যাংকটির তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমানত ও মূলধন শেষ হয়ে গেছে। সঞ্চিত লোকসান এখন ব্যাংকটির সম্পদ ও দায়ের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।’]। সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ প্রক্রিয়ায় এই সংকট উত্তরণ অসম্ভব হওয়ায় ব্যাংকটিকে গুটিয়ে ফেলা বা লিকুইডেশন ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক , ব্যাংকটির মন্দ ঋণ, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধন ঘাটতি এতটাই বেশি যে, তা কাটিয়ে ওঠা সাধারণ প্রক্রিয়ায় অসম্ভব।…, সবকিছু মিলিয়ে গুটিয়ে ফেলা (অবসান বা লিকুইডেশন) ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।]।


