দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা | ২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকায় মেট্রোরেল অবকাঠামো সম্প্রসারণে সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নসহ মোট ১৯টি কেনাকাটার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প (এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫: উত্তর রুট)-এর আওতায় পূর্ত ও সেবা খাতের এই কাজগুলো পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে এবং ডিএমটিসিএলের তত্ত্বাবধানে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এমআরটি লাইন-১ এর বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ ও ব্যয়
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন-১ (ডিপো ও মূল লাইন) প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের জন্য বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি যৌথ প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে:
-
ডিপো অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ: ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকায় এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
-
মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ: ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘নিশিমাতসু-টিপিএল-তোদা জয়েন্ট ভেঞ্চার’-কে।
-
রামপুরা থেকে নতুন বাজার অংশ: ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার মূল চুক্তিমূল্যে এই কাজ পেয়েছে ‘তোকিউ-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
-
মেইন লাইনের অন্য অংশ: ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় এই অংশের কাজের অনুমোদন পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।
-
রেললাইন ও বৈদ্যুতিক সুবিধা: ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সুবিধার কাজ দেওয়া হয়েছে ‘এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়াম’কে।
-
সংকেত ও টেলিযোগাযোগ: ট্রেন পরিচালন সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানোর কাজ ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড’।
এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট) এর অগ্রগতি
লাইন-৫ (উত্তর রুট)-এর হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা অংশ নির্মাণের কাজ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’। এছাড়া একই রুটের ডিপো এলাকার কাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
সার ও অন্যান্য খাতের কেনাকাটার অনুমোদন
কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
কাফকো থেকে ইউরিয়া: স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘কাফকো’ থেকে তৃতীয় চালানে ৩০ হাজার টন বস্তাজাত ইউরিয়া সার ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কেনা হবে।
-
সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে ইউরিয়া: সৌদি আরবের ‘সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ষষ্ঠ চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব’ থেকে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
মরক্কো থেকে ডিএপি ও টিএসপি: জিটুজি চুক্তির আওতায় মরক্কোর ‘ওসিপি নিউট্রিক্রপস’ থেকে দুই চালানে মোট ৮০ হাজার টন ডিএপি সার প্রতি চালানে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং একই কোম্পানির কাছ থেকে নির্দিষ্ট দরে টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
-
।


