রাজনীতি

এলএনজি ও কয়লা সংকটে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত, আগামী সপ্তাহে উন্নতির আশা/

নিজস্ব প্রতিবেদক/ দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি, কয়লার সংকট এবং দেশের প্রধান কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও নাজুক হয়ে উঠেছে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে রামপাল ও পটুয়াখালী কেন্দ্রে কয়লা সংকট এবং পায়রা ও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালানো যাচ্ছে না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার উৎপাদনে।

তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ। তাদের প্রত্যাশা, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়বে এবং কয়লা সংকট কাটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।

গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ কমে যায়। পরে তা কিছুটা বাড়লেও কয়েকটি কার্গো নির্ধারিত সময়ে না আসায় চলতি মাসের শুরু থেকে সরবরাহ নেমে এসেছে ৭০ কোটি ঘনফুটে।

বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। এলএনজি যোগ করে মোট সরবরাহ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩২ কোটি ঘনফুট। অথচ সরকারি হিসাবে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট এবং খাতসংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৫৫০ কোটি ঘনফুট।

আগামী সপ্তাহে এলএনজি বাড়ার পরিকল্পনা পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহের জটিলতা কাটতে শুরু করেছে। আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হবে। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং চলতি মাসে সাতটি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিং পরিস্থিতি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও রামপাল ও পটুয়াখালী কেন্দ্রে কয়লা সংকট এবং পায়রা কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল থেকে বর্তমানে মাত্র ৪৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকেও অতিবৃষ্টি ও কয়লা পরিবহনের কারণে নির্ধারিত ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের পরিবর্তে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

গরম কিছুটা কমে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। তবে চাহিদার বিপরীতে গড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ত্রুটি দূর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment