নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও একাত্তর টিভিতে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী ও ফ্যাসিস্ট ঘরানার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
স্বৈরাচার পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও দেশের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভিতে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের নির্দেশনার দিকে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদ পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠানটিতে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী এবং দলীয় ঘরানার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিএনপিপন্থী ও স্বাধীনতাকামী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাত্তর টিভির বর্তমান হেড অফ প্রোডাকশন আহমেদ রেজাউর রহমান বিগত সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন’, ‘শেখ হাসিনা প্রতিদিন’ এবং বিতর্কিত উপস্থাপিকা ফারজানা রূপার সঞ্চালনায় প্রচারিত ‘সমীকরণ’ অনুষ্ঠানের প্রযোজক ও স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তৎকালীন বিরোধী দল ও বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কুৎসা রটানো হতো। এমনকি শাপলা চত্বরের ঘটনার হতাহতের তথ্যকে আড়াল করার পাশাপাশি এসব অনুষ্ঠানেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছিল। এছাড়া তিনি ‘বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের’ও অন্যতম সদস্য বলে জানা গেছে।
একইভাবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান বর্তমানে চ্যানেলটির মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত হেড অফ ইনপুট সুজন কবির এবং চিফ রিপোর্টার মিল্টন আনোয়ার আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ফারজানা রূপা, মোজাম্মেল বাবু ও শাকিল আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করেছেন। তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মিডিয়া ট্রায়াল তৈরিতে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে মেঘনা গ্রুপের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের একটি সিন্ডিকেটের ইশারায় বিগত ফ্যাসিবাদের দোসরদের রক্ষা ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ধরে রাখতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ মহল থেকে প্রায়শই দাম্ভিকতামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্ন, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ভেতর থেকে কি তবে পুনরায় ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসনের গোপন পাঁয়তারা চলছে? এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও সচেতন মহল অবিলম্বে একাত্তর টিভিতে বিতর্কিত ও দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিল এবং বৈষম্যমূলক ছাঁটাই বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।


