হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় ৩৫ ইরানি নিহত: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের শঙ্কা আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল: হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ এখন আর কেবল একটি সামরিক বা কূটনৈতিক সংকট নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) রাতভর ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ। এরই মধ্যে মার্কিন হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী এবং দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সমঝোতা চুক্তি থেকে বিরোধের সূত্রপাত গত ১৭ জুন (২০২৬) ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছিল। তবে চুক্তির কয়েকটি ধারা অস্পষ্ট থাকায় শুরু থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে। বিরোধের মূল কেন্দ্র: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের মূল রুট এই হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, তেহরান এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে ভিন্নভাবে। ইরানের অবস্থান: তেহরানের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হলো প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণের অধিকার। এছাড়া, অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ‘সেবা ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে তারা, যা থেকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের দায়িত্ব হলো কোনো শর্ত ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওমান উপকূলঘেঁষা একটি বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের নির্দেশ দিলে ইরান তাতে আপত্তি জানায় এবং জাহাজে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরেই মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ আরোপ ও সামরিক হামলা শুরু করে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি ও কৌশলগত চাল পর্দার আড়ালে এই সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ চার্জ বা শুল্ক আরোপ করবে এবং নিজেদের এই প্রণালির অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। যদিও মিত্র দেশগুলোর তীব্র চাপে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আমেরিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের শর্ত দেওয়ায় তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। তেহরান এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক এবং বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ এখন আর কেবল একটি সামরিক বা কূটনৈতিক সংকট নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) রাতভর ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ।

এরই মধ্যে মার্কিন হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী এবং দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সমঝোতা চুক্তি থেকে বিরোধের সূত্রপাত

গত ১৭ জুন (২০২৬) ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছিল। তবে চুক্তির কয়েকটি ধারা অস্পষ্ট থাকায় শুরু থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে।

বিরোধের মূল কেন্দ্র: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের মূল রুট এই হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, তেহরান এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে ভিন্নভাবে।

  • ইরানের অবস্থান: তেহরানের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হলো প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণের অধিকার। এছাড়া, অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ‘সেবা ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে তারা, যা থেকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের দায়িত্ব হলো কোনো শর্ত ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওমান উপকূলঘেঁষা একটি বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের নির্দেশ দিলে ইরান তাতে আপত্তি জানায় এবং জাহাজে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরেই মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ আরোপ ও সামরিক হামলা শুরু করে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি ও কৌশলগত চাল

পর্দার আড়ালে এই সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ চার্জ বা শুল্ক আরোপ করবে এবং নিজেদের এই প্রণালির অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। যদিও মিত্র দেশগুলোর তীব্র চাপে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আমেরিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের শর্ত দেওয়ায় তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। তেহরান এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক এবং বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ এখন আর কেবল একটি সামরিক বা কূটনৈতিক সংকট নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) রাতভর ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ।

এরই মধ্যে মার্কিন হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী এবং দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সমঝোতা চুক্তি থেকে বিরোধের সূত্রপাত

গত ১৭ জুন (২০২৬) ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছিল। তবে চুক্তির কয়েকটি ধারা অস্পষ্ট থাকায় শুরু থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে।

বিরোধের মূল কেন্দ্র: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের মূল রুট এই হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, তেহরান এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে ভিন্নভাবে।

  • ইরানের অবস্থান: তেহরানের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হলো প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণের অধিকার। এছাড়া, অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ‘সেবা ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে তারা, যা থেকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের দায়িত্ব হলো কোনো শর্ত ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওমান উপকূলঘেঁষা একটি বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের নির্দেশ দিলে ইরান তাতে আপত্তি জানায় এবং জাহাজে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরেই মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ আরোপ ও সামরিক হামলা শুরু করে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি ও কৌশলগত চাল

পর্দার আড়ালে এই সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ চার্জ বা শুল্ক আরোপ করবে এবং নিজেদের এই প্রণালির অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। যদিও মিত্র দেশগুলোর তীব্র চাপে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আমেরিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের শর্ত দেওয়ায় তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। তেহরান এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক এবং বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   8   =